১. যদি আপনার ডেস্কটপ কম্পিউটারে ওয়েবক্যাম না থাকে। তাহলে নতুন কেনার দরকার নেই—আপনার পুরনো আইফোনই সে কাজ করতে পারে। এমনকি যদি আপনার কাছে বিল্ট-ইন ওয়েবক্যামসহ একটি ল্যাপটপ থাকে, তবুও সেটি একটি পুরনো আইফোনের ক্যামেরার মানের কাছে হেরে যাবে। ওয়েবক্যাম হিসেবে আইফোন ব্যবহার করা বেশ সহজ, বিশেষ করে ম্যাকের ক্ষেত্রে। যদি আপনার আইফোন আইওএস ১৬ বা তার পরবর্তী সংস্করণে চলে, তাহলে আপনি ওয়্যারলেস সংযোগের জন্য কন্টিনিউটি ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারেন। এ ফিচার ম্যাককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইফোনের ন্যূনতম সেটআপসহ ওয়েবক্যাম হিসেবে শনাক্ত ও ব্যবহার করতে দেয়। আপনি যদি উইন্ডোজ কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি ক্যামোর মতো একটি তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার পুরনো আইফোনকে ওয়েবক্যামে পরিণত

করতে পারেন।

২. অব্যবহৃত আইফোনকে ম্যাকের বিল্ট-ইন স্পিকারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে যেহেতু ম্যাকওএস সরাসরি আইফোনে অডিও স্ট্রিম করতে পারে না, তাই এটি কাজ করার জন্য আপনার এয়ারফয়েলের মতো একটি তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের প্রয়োজন হবে। এয়ারফয়েল আপনাকে ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথের মাধ্যমে আপনার ম্যাক থেকে আইফোনে অডিও স্ট্রিম করতে সহায়তা করবে। নতুন হার্ডওয়্যারে বিনিয়োগ না করেই আপনি পেয়ে যেতে পারেন দুর্দান্ত ওয়্যারলেস স্পিকার।

৩. ভিআর হেডসেট ব্যবহার করা একটি মজাদার অভিজ্ঞতা। কিন্তু যদি আপনি এটি কিনতে না চান, তাহলে আপনার পুরনো আইফোনটি কার্ডবোর্ড ভিআর হেডসেটের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন। যদিও গুগল তার কার্ডবোর্ড ভিআর হেডসেট বন্ধ করে দিয়েছে, তবুও আপনি অনলাইনে সাশ্রয়ী মূল্যের অনেক বিকল্প পেতে পারেন। একবার একটি কার্ডবোর্ড কিনে ফেললে, শুধু আপনার আইফোনটি হেডসেটে রেখে, ইউটিউব অ্যাপে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও দেখতে পারবেন বা রোলার কোস্টারের মতো গেম খেলে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। এ সেটআপ ভার্চুয়াল ট্যুর, ইন্টারেক্টিভ অভিজ্ঞতা ও বেসিক ভিআর গেমের জন্য ভালো।

৪. ডেডিকেটেড এআই চ্যাটবট ডিভাইস হিসেবে পুরনো আইফোনটি ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। পুরনো আইফোনটিতে আপনার পছন্দের এআই অ্যাপ ইনস্টল করুন, আইফোনটিকে ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করুন এবং এটি আপনার ডেস্ক বা নাইটস্ট্যান্ডে রাখুন। হয়ে গেল একটি চমৎকার ডেস্ক সেটআপ।

৫. পুরনো আইফোনকে আইপ্যাডে রূপান্তর করে গান ও অডিওবুক শুনতে পারেন। এতে কোনো জটিল সেটআপের প্রয়োজন নেই। অ্যাপ স্টোর থেকে কেবল মাই ক্ল্যাসিক অ্যাপটি কিনুন এবং আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

৬. পুরনো আইফোনকে পুনর্ব্যবহারের আরেকটি চমৎকার উপায় হলো এটিকে একটি ডেডিকেটেড স্মার্ট হোম কন্ট্রোলারে রূপান্তর করা। অ্যাপল হোম ও গুগল হোমের মতো অ্যাপের সাহায্যে আপনি আপনার সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইসগুলো পরিচালনা করতে পারেন। যার মধ্যে রয়েছে লাইট, থার্মোস্ট্যাট, ক্যামেরা ও আরো অনেক কিছু।

৭. রান্নাঘরের সহযোগী বা সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে পুরনো আইফোন। এ ফোনে ইনস্টল করে নিতে পারেন রেসিপি অর্গানাইজার অ্যাপ। রান্নার সময় পরিমাপ বা বিনোদনের কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে অব্যবহৃত আইফোন।

৮. আইফোন ব্যবহার করে যেকোনো স্পিকারকে আধুনিক স্পিকারে রূপান্তর করা যেতে পারে। হাই সিরি অ্যাপ ডাউনলোড করে নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে আইফোনটি যুক্ত করে নিলেই পুরনো স্পিকারটি হয়ে উঠবে আধুনিক।

৯. ডাম্ব ফোন হিসেবেই আইফোনকে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ধরনের ফোন শুধু কল, মেসেজ ও আরো কয়েকটি মৌলিক পরিষেবা দেয়। সমস্ত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে ব্ল্যাঙ্ক স্পেস লাউঞ্চার ইনস্টল করে নিলেই আইফোনটি ডাম্বে ফোনে পরিণত হবে।