টেলিযোগাযোগ খাত বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির ডাটা পরিবহন ও সংযোগের কেন্দ্রীয় মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তবে একই সঙ্গে নেটওয়ার্কগুলো এখন সাইবার হামলা ও তথ্য চুরির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ফাইভজি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং সংযুক্ত ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ঝুঁকি আরো বাড়ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই)।

নকিয়ার ২০২৫ সালের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএসপিআই বিশ্লেষণে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এখন কেবল ফোনকল, ইন্টারনেট ও ডাটা সংযোগ চালু রাখতে ব্যবহৃত রাউটার বা সুইচ হিসবে কাজ করে না। ইন্টারনেটের পেছনে থাকা এ অবকাঠামো এখন প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রণ এবং একই সঙ্গে সাইবার হামলার সক্রিয় লক্ষ্যবস্তুও।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টেলিকম অপারেটরদের সিস্টেমে সাইবার হামলা বেড়েছে। গত তিন বছরে ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল-অফ-সার্ভিসের (ডিডিওএস) মতো নেটওয়ার্কে চাপ সৃষ্টিকারী বড় আক্রমণ দ্বিগুণ হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন নেটওয়ার্কের সংযোগস্থলই হ্যাকার ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের লড়াইয়ের মূল ক্ষেত্র। তাই এখানে নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নকিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর শনাক্ত হওয়া প্রতি চারটি ম্যালওয়্যারের মধ্যে একটি টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক থেকে এসেছে। হ্যাকাররা স্মার্ট মিটার, ক্যামেরা এবং শিল্পভিত্তিক সেন্সরের মতো কানেক্টেড ডিভাইস ব্যবহার করে এমন বটনেট তৈরি করছে, যা শনাক্ত করা কঠিন।

বটনেট হলো হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সংক্রমিত কম্পিউটার বা ডিভাইসের নেটওয়ার্ক। এ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা ডিডিওএস আক্রমণ, তথ্য চুরি বা স্প্যাম ই-মেইল পাঠাতে পারে।

এএসপিআই ও নকিয়ার সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুমকির সংখ্যার চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক হলো এর উদ্দেশ্য। কিছু হ্যাকার সরাসরি সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না। তারা নেটওয়ার্কে ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে থাকে এবং ধীরে ধীরে তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি নেটওয়ার্কের কর্মপ্রবাহ বুঝে

নেয়াসহ ভবিষ্যতে বড় হামলা চালাতে সুবিধা করে নেয়। এছাড়া এখন হ্যাকাররা এআই ব্যবহার করে কার্যক্রম বর্ধিত ও আড়াল করতে পারছে। তারা রাউটার ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনায় গোপনভাবে প্রবেশ করছে; প্রকৃত ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড কাজে লাগিয়ে নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখছে।

বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল অর্থাৎ ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর-সংলগ্ন দেশগুলোর জন্য এটি একটি গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক দেশ দ্রুত ফাইভজি সম্প্রসারণ, সাগর তলের কেবল উন্নয়ন এবং এজ ডাটা সেন্টার স্থাপন করছে। এসব নতুন নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর ওপর পুরোপুরি নজর রাখা কঠিন এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার মান সব জায়গায় সমান নয়। তাই হুমকি বাড়লে নিরাপত্তা শক্তিশালী করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।