নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপে (জেডব্লিউএসটি) ধরা পড়লো মহাবিশ্বের এক বিরল দৃশ্য। 'আইনস্টাইন রিং' নামে পরিচিত এ ঘটনার একটি ছবি সম্প্রতি নাসা, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) ও কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (সিএসএ) থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) প্রকাশিত ছবিটিকে জেডব্লিউএসটির মাসসেরা ছবি ঘোষণা করা হয়েছে।

ছবিটি স্ট্রং লেন্সিং এবং ক্লাস্টার ইভোলিউশন (এসএলআইসিই) নামক এক গবেষণার অংশ। এ গবেষণার মাধ্যমে ১৮২টি গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের ৮০০ কোটি বছরের বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেলজিয়ামের লিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গিলোম মাহলার। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও কাজ করছেন।

jwst

ছবিটি প্রস্তুত করতে নাসা ও ইএসএ'র হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ওয়াইড ফিল্ড ক্যামেরা-৩ ও অ্যাডভান্সড ক্যামেরা ফর সার্ভেস থেকে নেয়া তথ্যও যোগ করা হয়েছে। প্রথম নজরে এটিকে একটি একক গ্যালাক্সি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ভিন্ন দূরত্বের দুটি গ্যালাক্সির দৃশ্য বলে নাসার বরাতে জানানো হয়েছে। এটি মহাকর্ষীয় লেন্সিংয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

আইনস্টাইন রিং কীভাবে তৈরি হয়?

দূরবর্তী গ্যালাক্সির আলোর সামনে থাকা কোনো বিশাল মহাজাগতিক বস্তুর চারপাশ দিয়ে বেঁকে গেলে আইনস্টাইন রিং –এর দেখা মেলে। আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাকর্ষ স্পেস-টাইমকে বিকৃত করে। সাধারণত এই বিকৃতি খালি চোখে বোঝা যায় না। দূরবর্তী গ্যালাক্সি থেকে আসা আলো সামনে থাকা বস্তু ও পৃথিবীর সাথে সঠিকভাবে সারিবদ্ধ হলে মহাকর্ষের প্রভাবে আলো বেঁকে গিয়ে একটি বৃত্তাকার অবয়ব তৈরি করে। এটিই আইনস্টাইন রিং নামে পরিচিত।

আইনস্টাইন রিং প্রাকৃতিক দূরবীন হিসেবে কাজ করে, যা খুবই দুর্বল বা দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো থেকে আসা আলো পর্যবেক্ষণের সুযোগ করে দেয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে এবং মহাজাগতিক অতীতের নানা রহস্য উন্মোচনে সহায়ক হতে পারে।