অনলাইন কেনাকাটা এখন অনেক সহজ ও জনপ্রিয় হলেও এর ঝুঁকিও কম নয়। প্রতিদিনই কেউ না কেউ অনলাইন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) তথ্য বলছে, অনলাইন কেনাকাটা এখন দেশটিতে প্রতারণার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রিপোর্টকৃত খাত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রেতারা যদি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করেন, তাহলে এমন প্রতারণা এড়ানো সম্ভব। নিচে অনলাইন কেনাকাটায় যে পাঁচটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা তুলে ধরা হলো—

অস্বাভাবিক পেমেন্ট পদ্ধতি এড়িয়ে যেতে হবে

প্রতারক বিক্রেতারা সাধারণত ক্রেডিট কার্ড বা নিরাপদ পেমেন্ট মাধ্যম এড়িয়ে অন্য উপায়ে অর্থ চায়। যেমন গিফট কার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি, মানি ট্রান্সফার বা ভেনমো, জেল, ক্যাশ অ্যাপের মতো পিয়ার-টু-পিয়ার অ্যাপ। এসব মাধ্যমে একবার টাকা পাঠালে তা ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

যদি কেউ গিফট কার্ড কিনে কোড পাঠাতে বলে, বুঝে নিতে হবে প্রতারণা হচ্ছে। ঠিক একইভাবে, ওয়্যার ট্রান্সফার কিংবা ক্রিপ্টো পেমেন্টেও নিরাপত্তা নেই। এফটিসির সুস্পষ্ট পরামর্শ, কোনো অচেনা ব্যক্তিকে কখনই টাকা ট্রান্সফার করা উচিত নয়।

প্লাটফর্মের বাইরে লেনদেন নয়

ইবে, ফেসবুক মার্কেটপ্লেস বা টিকটক শপের মতো প্লাটফর্মে কেনাকাটার সময় লেনদেন প্লাটফর্মের মধ্যেই রাখুন। কেউ যদি ব্যক্তিগত মেসেজ, ই-মেইল বা টেক্সটের মাধ্যমে লেনদেন করতে চায়, তাহলে তা ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই পেপ্যালের ‘ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি’ অপশনের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে বলেন, যা নিরাপদ নয়, কারণ এতে কোনো ক্রেতা সুরক্ষিত থাকে না। অফ প্লাটফর্ম লেনদেনে প্রতারিত হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগও থাকে না।

প্রতারণার বহুল ব্যবহৃত কৌশল দামে অস্বাভাবিক ছাড়

অনেক সময় জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পণ্য অবিশ্বাস্য কম দামে অফার করা হয়। এটি প্রতারকদের সবচেয়ে পরিচিত কৌশল। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অনেক বিজ্ঞাপন দেখা যায়, যেগুলো ক্লিক করলে ভুয়া সাইটে নিয়ে যায়। সেখানে হয় নকল পণ্য পাঠানো হয়, নয়তো কিছুই পাঠানো হয় না। তাই কেনার আগে অন্যান্য সাইটে দাম মিলিয়ে দেখতে হবে, রিভিউ পড়ে ও রিটার্ন নীতিমালা যাচাই করে নিতে হবে।

ওয়েবসাইট বা পোস্টে অগোছালো তথ্য

প্রতারকরা সাধারণত দ্রুত ওয়েবসাইট তৈরি করে, যাতে অনেক ভুলভ্রান্তি থাকে। যেমন ভুল বানান, দুর্বল গঠন, নিম্নমানের ছবি বা অস্পষ্ট পণ্যের বর্ণনা। অনেক সময় আবার পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম নকল করে ভুয়া সাইট তৈরি করা হয়, যেমন অ্যামাজন ডটকম বা ব্র্যান্ডশপ অফিশিয়াল ডটনেট। সঠিক ওয়েবসাইটে ‘আবাউট আস’ অংশ, রিটার্ন ও শিপিং নীতিমালা, যোগাযোগের সঠিক তথ্য থাকে। কোনো ওয়েবসাইটে যদি এসব না থাকে, তবে সেটা সন্দেহজনক।

কোনো রিভিউ থাকে না বা থাকলেও তা শুধু ইতিবাচক মন্তব্য

বিশ্বস্ত বিক্রেতার সাধারণত অনলাইন উপস্থিতি থাকে। গুগল, ট্রাস্টপাইলট, বিটার বিজনেস ব্যুরো বা সামাজিক মাধ্যমে তাদের রিভিউ পাওয়া যায়। যদি কোনো বিক্রেতার সম্পর্কে কোনো রিভিউ না পাওয়া যায় বা সবই সন্দেহজনকভাবে ইতিবাচক হয়, তাহলে সতর্ক হতে হবে। বস্তুত, বাস্তব জীবনে শতভাগ সন্তুষ্টি সম্ভব নয়। কোনো রিভিউ না থাকাও যেমন সন্দেহজনক, তেমনি নিখুঁত রেটিংও হতে পারে প্রতারণার আভাস।

এ পাঁচ লক্ষণ মাথায় রেখে যদি অনলাইন কেনাকাটা করা হয়, তাহলে প্রতারণার ফাঁদ থেকে নিজেকে অনেকটাই রক্ষা করা সম্ভব। —স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে