স্যামসাং গ্যালাক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুতর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে ‘ল্যান্ডফল’ নামের একটি উন্নত স্পাইওয়্যার গোপনে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবহারকারীদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়েছে। অথচ ব্যবহারকারীরা মাসের পর মাস এ হুমকির ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। খবর ইন্ডিয়া টুডে।

নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান পালো অল্টো নেটওয়ার্কসের ইউনিট ৪২ নামের একটি দল আক্রমণটি প্রথম শনাক্ত করে। গবেষকরা জানান, এ আক্রমণের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এতে ব্যবহারকারীকে কোনো লিংকে ক্লিক করতে বা অ্যাপ ইনস্টল করতে হয়নি। শুধু একটি সাধারণ ছবি ফোনে এলেই পুরো ডিভাইসটি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেত।

ইউনিট ৪২ জানায়, এ হামলায় ‘সিভিই-২০২৫-২১০৪২’ নামের একটি জিরো-ডে দুর্বলতা (সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটি) ব্যবহার করা হয়েছিল, যা স্যামসাংয়ের ইমেজ-প্রসেসিং লাইব্রেরিতে লুকানো ছিল। হ্যাকাররা ক্ষতিকারক ডিজিটাল ফাইলকে সাধারণ ছবিতে রূপান্তর করে। তারপর সেটি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠায়। ছবিটি ফোনে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গেই ডিভাইসটি আক্রান্ত হয়। একে বলা হয় ‘জিরো-ক্লিক’ আক্রমণ।

প্রযুক্তি বিষেষজ্ঞদের মতে, একবার ডিভাইস আক্রান্ত হলে ল্যান্ডফল পূর্ণাঙ্গ গুপ্তচরের মতো কাজ করে। এটি কল, ছবি, মেসেজ, কনট্যাক্ট তালিকা সংগ্রহ থেকে শুরু করে কথোপকথন রেকর্ড পর্যন্ত করে। এমনকি এটি ব্যবহারকারীর অবস্থানও ট্র্যাক করতে সক্ষম।

এ আক্রমণের লক্ষ্য ছিল মূলত মধ্যপ্রাচ্যের তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও মরক্কোর ব্যবহারকারীরা। আক্রান্ত ফোনগুলোর মধ্যে ছিল গ্যালাক্সি এস২২, এস২৩, এস২৪, জেড ফোল্ড ৪ ও জেড ফ্লিপ ৪ মডেল।

এদিকে ল্যান্ডফলের ডিজিটাল চিহ্নের সঙ্গে পূর্বে পরিচিত এক নজরদারি গোষ্ঠী ‘স্টিলথ ফ্যালকন’-এর কাজের মিল পাওয়া গেছে। তবে গবেষকরা কোনো গোষ্ঠীর নাম নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেননি।

ইউনিট ৪২-এর এক প্রধান গবেষক বলেন, ‘এটি গণ-আক্রমণ ছিল না, বরং লক্ষ্যভিত্তিক হামলা। এর উদ্দেশ্য আর্থিক নয়, বরং তথ্য সংগ্রহ।’

তুরস্কের জাতীয় সাইবার সংস্থাও ল্যান্ডফল স্পাইওয়্যারটির একটি সার্ভারের ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বর্তমানে যারা তাদের স্যামসাং ফোনের সফটওয়্যার আপডেট করেছেন, তারা নিরাপদ বলে জানানো হয়েছে।