চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বব্যাপী ক্লাউড অবকাঠামো খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। বাজার গবেষণা সংস্থা ক্যানালিসের গত বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির মতে, এখন অনেক কোম্পানি উপলব্ধি করছে যে এআই সফটওয়্যার সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সব ডাটা ও কাজ ইন্টারনেটে থাকা বড় সার্ভারে স্থানান্তর করা জরুরি। তাই প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে পুরনো কম্পিউটার থেকে নতুন ক্লাউড সার্ভারের দিকে যাচ্ছে। বড় পরিসরে ক্লাউড ও এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এখন বাজারের প্রধান প্রবণতা বলে উল্লেখ করেছে ক্যানালিস।
এছাড়া বড় ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারীরা এআই ব্যবহারের খরচ কমানো ও কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য নিজস্ব চিপ তৈরি করছে। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহজে ও সাশ্রয়ে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করতে পারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিনার্জি রিসার্চ গ্রুপের তথ্যানুযায়ী, গত বছর বিশ্বব্যাপী ক্লাউড অবকাঠামো পরিষেবার বাজার ৩৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার বেশি। ক্লাউড অবকাঠামোর দ্রুত প্রবৃদ্ধি মূলত জেনারেটিভ এআই (জেনএআই) প্রযুক্তির বাড়তি চাহিদার কারণে ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ক্যানালিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বব্যাপী ক্লাউড সেবায় সবচেয়ে বড় তিন প্রতিষ্ঠান নিজেদের আগের অবস্থান বজায় রেখেছে। এগুলো হলো অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস), মাইক্রোসফট অ্যাজুর ও গুগল ক্লাউড। বৈশ্বিক ক্লাউড বাজারের ৬৫ শতাংশ দখলে রেখেছে এ তিন কোম্পানি।
সার্বিকভাবে এ সময় বৈশ্বিক ক্লাউড পরিষেবার বাজারে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ক্যানালিস বলছে, কোম্পানিগুলো এখন দুটি বিষয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে—কাজগুলো দ্রুত ক্লাউডে নেয়া এবং আগের থেমে থাকা ক্লাউড মাইগ্রেশন (কোম্পানির তথ্য, সফটওয়্যার, অন্যান্য কাজ পুরনো কম্পিউটার বা সার্ভার থেকে ক্লাউডে স্থানান্তর করা) আবার শুরু করা। পাশাপাশি তারা নতুন ধরনের এআই প্রযুক্তি বা জেনারেটিভ এআইও ব্যবহার করছে। আর জেনারেটিভ এআই চালাতে বেশি ক্লাউডের দরকার হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউড অবকাঠামো প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের ডাটা ও অ্যাপ্লিকেশন অনলাইনে পরিচালনা করতে পারে। এটি এক ধরনের ভার্চুয়াল সিস্টেম, যেখানে ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সম্পদ যেমন স্টোরেজ, কম্পিউটিং ক্ষমতা ও নেটওয়ার্কিং সেবা পাওয়ার জন্য কোনো ভৌত অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। বরং এটি দূরবর্তী ডাটা সেন্টার থেকে সরবরাহ করা হয়।
সিনার্জি রিসার্চ গ্রুপের প্রধান বিশ্লেষক জন ডিন্সডেল বলেন, ‘গত বছরের শেষ তিন মাস ক্লাউড পরিষেবার জন্য আরেকটি শক্তিশালী প্রান্তিক ছিল। এটি পুরো বছরের প্রবৃদ্ধির হারকে ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে দিয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেছেন চ্যাটজিপিটি চালুর পর ক্লাউড সেবার আয় বৃদ্ধির কমপক্ষে অর্ধেকের কারণ জেনআই।
এদিকে কানেকটিকাটভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, এআইয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ক্লাউড পরিষেবা খাতের ব্যয়কে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। চলতি বছর বিশ্বব্যাপী পাবলিক ক্লাউড পরিষেবায় ব্যয় ছাড়াবে ৭২ হাজার কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।










