ঢাকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর দারুণ সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েও পরাজিত দলের নাম বাংলাদেশ। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাগতিক দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্বীকার করেছেন, তারা প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছেন এবং সেটাই হারের বড় কারণ।
প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। লিডটা আরো বড় করা যেত এবং ২৭২ রানের স্কোরটা আরো বড় হতে পারত বলে মনে করেন শান্ত। অধিনায়ক মনে করেন, বাংলাদেশ আসলে হেরে গেছে সেখানেই। গতকাল চতুর্থ দিন হারের পর বিমর্ষ শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ ম্যাচে আমরা প্রথম ইনিংসেই পিছিয়ে পড়েছি। প্রথম ইনিংসে উইকেট যে রকম ছিল এবং আমরা যেভাবে দিন শেষ করলাম, ৩ উইকেটে ২১৩ রানে শেষ করার পর ২৭২ রান (অলআউট), আমার মনে হয় যে ওখানে আমরা অনেকটা পেছনে চলে গেছি ম্যাচে। আমরা জানতাম যে পরের দিকে ব্যাটিং করাটা কঠিন হবে। তাই আমি বলব যে আমরা ভুলটা প্রথম ইনিংসেই করেছি এবং ওই জায়গাটা যদি আমরা আরেকটু বড় করতে পারতাম, তাহলে আমরা লিডটা আরেকটু বড় পেলে খেলাটা ভিন্ন হতে পারত।’
তিনি বলেন, ‘আমি তো মনে করি আমাদের জয়ের আকাঙ্ক্ষা ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ সবই ভালো ছিল। খেলোয়াড়রা সত্যিই দলের জন্য ভালো করতে চেয়েছিল। তবে এটা আমাদের জন্য একটা খারাপ দিন। তিনটি বিভাগের কোনোটিতেই আমরা ভালো করিনি, বিশেষ করে ফিল্ডিং। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। আসলে ক্রিকেটে এটা কখনো কখনো ঘটে। তবে আমরা করি, আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল, জয়ের আকাঙ্ক্ষাও ছিল।’
১৭০ রানের পুঁজি নিয়ে এ উইকেটে জেতা সম্ভব ছিল কিনা, এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দলনায়ক বলেছেন, ‘উইকেটের যে অবস্থা ছিল, আমাদের বিশ্বাস ছিল এ রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা হয়নি। অবশ্যই ওদের কৃতিত্ব দিতে হবে, কিন্তু আমি বলব যে আমরা এ উইকেটে আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।’
তিন স্পিনার তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান মিলে ২৮.১ ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট পাননি, রানও দিয়েছেন ওভারপ্রতি সাড়ে চারের বেশি। এ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে লেংথটা আমরা খুব ভালোভাবে ঠিক পারিনি। লেংথটা একটু এলোমেলো ছিল। অন্যথায় এত সহজে ওরা ব্যাট করতে পারত না। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসের ব্যাটিংটা ওদের, আমরা মাত্র দুইটা উইকেট নিয়েছি। এ জায়গায় ম্যাচ হারলেও অন্তত যদি সাত-আটটা উইকেট নিতে পারতাম, তাহলে বুঝতাম যে হয়তো আমরা রানটা কম করেছি। এ জায়গাটাতে আমার মনে হচ্ছে (বোলিং) একটু এলোমেলো ছিল।’
টেস্ট স্পেশালিস্ট তাইজুল ইসলামের ওপর দলের প্রত্যাশা বেশি। তবে এবার তিনি ব্যর্থ। প্রথম ইনিংসে ২৬ ওভারে ৭৬ রান খরচ করে ২টি উইকেট নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ১২.১ ওভারে ৫৪ রান খরচ করে উইকেটশূন্য। তাকে নিয়ে শান্ত বলেন, ‘তাইজুল ভাই বছরের পর বছর অনেক ভালো বল করেন সবসময়। এ ম্যাচটা হয়তো একটু কম ভালো বোলিং করেছেন আমি বলব। এটা হতেই পারে। আমাদের এত সেরা বোলার এত বছর ধরে পারফর্ম করছে, তাকে এত দ্রুত বিচার করা উচিত না। আমি বিশ্বাস করি যে পরের টেস্টে সে ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।’
প্রথম ইনিংসে ৫১ রানে শেষ ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৫ উইকেট নেন ওয়ারিক্যান। দ্বিতীয় ইনিংসে এ বামহাতি স্পিনার নেন আরো ৪ উইকেট। তবে শান্তর স্থির বিশ্বাস, বাংলাদেশের ব্যর্থতার কারণেই ওয়ারিক্যান সফল হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যি বলতে কাউকে ছোট করছি না। কিন্তু আমার মনে হয় যে সে (ওয়ারিক্যান) যতটুকু না ভালো বল করেছে, তার থেকে আমরা খারাপ ব্যাটিং বেশি করেছি। সত্যি বলতে আমি তাকে অসম্মান করছি না।’
এরপর নিজেদের, মানে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ দলনায়ক বলেন, ‘ব্যাটিংটা আমাদের ভালো হয়নি, এ জায়গায় সিনিয়র ব্যাটসম্যান হিসেবে আমি আমার কথা বলতে পারি, আমার আরো বড় দায়িত্ব নেয়া উচিত ছিল। কারণ আমি অনেক দিন ধরে খেলছি, এ কন্ডিশন নিয়ে অনেক পরিচিত আমি। আমি যদি এখান থেকে একটা বড় রান করতে পারতাম, তাহলে হয়তো দলের রান ২৭০-এর জায়গায় ৩৭০ হতে পারত।’
এদিকে প্রথম টেস্ট জয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলনায়ক রোস্টন চেজ বলেন, ‘দুটি ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আমরা এখানে এসেছি, যাতে আমাদের র্যাংকিংয়ে উন্নতি হয়। আমরা ষষ্ঠ কিংবা পঞ্চম স্থানে (আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ) থেকে শেষ করতে চাই এবং সেটি সম্ভব করতে চাইলে দুটি ম্যাচই জিততে হবে। এ কারণে ছেলেরা খুব প্রত্যয়ী ছিল। প্রথম ইনিংসে আমরা লিড নিতে না পারলেও ছেলেরা মনোবল হারায়নি এবং লড়াই করে ম্যাচটা জিতে নিয়েছি। আমি ছেলেদের বলব, তারা যেন এমনভাবে লড়াইটা করে যায়।’










