ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে ও রোমারিও দাবি করেছেন, তারা প্রতেকেই ক্যারিয়ারে এক হাজার গোল করেছেন। তবে প্রীতি ম্যাচের গোল অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে তাদের হাজার গোলের দাবি টেকেনি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তা রেকর্ডেও নেই। পর্তুগিজ ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে এক হাজার গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তিনি সফল হলে এটা হবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের অন্যতম সেরা অর্জন।

ক্যারিয়ারজুড়ে ফুটবলের বেশির ভাগ রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো এবং সম্ভাব্য সব ট্রফিই জিতে নিয়েছেন। জিততে পারেননি শুধু বিশ্বকাপ। তবে তার অর্জন এতই বেশি যে বিশ্বকাপ জিততে না পারার হতাশা ভুলে থাকার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক হাজার গোল করার পথে আরো এগিয়ে গেলেন রোনালদো। বৃহস্পতিবার সৌদি প্রো-লিগে আল খুলুদের বিপক্ষে ৫-৩ গোলের জয় তুলে নিয়েছে আল নাসর। এ ম্যাচে ১৫ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করেন রোনালদো। তার ক্যারিয়ারে গোল সংখ্যা এখন ৯৮৫।

স্কোরলাইন ২-২ গোলের সমতায় থাকার পর হ্যাটট্রিক করেন কৃতী ফরওয়ার্ড রোনালদো। ম্যাচের ৬৬, ৭২ ও ৮২ মিনিটে গোল করেন তিনি। আর মাত্র ১৫ গোল করলেই তিনি হাজার গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবেন। আগামীকাল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উজবেকিস্তানের দল পাখতাকোর এফসির মুখোমুখি হবে আল নাসর। এ ম্যাচে গোল সংখ্যা আরেকটু বাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ পাবেন পর্তুগিজ সুপারস্টার।

এদিন রোনালদো করেন ক্যারিয়ারের ৬৭তম হ্যাটট্রিক। এটা সৌদি ক্লাবটির হয়ে তার সপ্তম হ্যাটট্রিক। সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেন ২০২৪ সালের ৪ মে আল নাসরের হয়ে। প্রায় আড়াই বছর পর হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। ক্যারিয়ারে ৬৭ হ্যাটট্রিকের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪৪টি, পর্তুগালের ১০টি, আল নাসরের ৭টি এবং ম্যানইউ ও জুভেন্টাসের হয়ে ৩টি করে। এক হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার দৌড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির চেয়ে ৪৯ গোলে এগিয়ে আছেন রোনালদো। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসির গোল সংখ্যা ৯৩৬। তিনি হ্যাটট্রিক করেছেন ৬২টি। দুটিতেই মেসির চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২২৫ ম্যাচে রেকর্ড ১৪৩ গোল করেছেন রোনালদো। বাকি গোলগুলো তিনি করেছেন স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস ও আল নাসরের হয়ে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩৪৩ ম্যাচ খেলে ৯৮৫ গোল করেছেন রোনালদো। ম্যাচপ্রতি তার গোলগড় দশমিক ৭৩।

চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে ৯ গোল করেছেন রোনালদো। সৌদি লিগে ১০ ম্যাচে তার গোল ৮টি। আল নাসরের হয়েও গোলের রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। তিনি ক্লাবটির জার্সিতে রেকর্ড ১৩১ গোল করেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২৪ গোল করেছেন মোহাম্মদ আল-সাহলাবি।

হ্যাটট্রিক করে দলকে জেতানোর পর অনুভূতি ব্যক্ত করে রোনালদো বলেন, ‘অসাধারণ জয়, দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স। হ্যাটট্রিক করে দলকে সাহায্য করতে পেরে আমি আনন্দিত!’

এক সপ্তাহে দুবার সংবাদ শিরোনাম হলেন রোনালদো। ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বছর উয়েফা ও ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকীর আয়োজন করা ‘ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম’ (বোট) ব্যালন ডি’অর জিতে নিয়েছেন তিনি। ভোটের লড়াইয়ে মেসিকে পেছনে ফেলেছেন সিআর সেভেন। তার জেতা পাঁচটি ব্যালন ডি’অরের মধ্যে প্রথমটি পারফরম্যান্সসেরা হিসেবে বিজয়ী হয়েছে। ২০০৮ সালে তার জেতা ব্যালন ডি’অর মৌসুম ‘বোট’ জিতেছে।

অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অরজয়ী খেলোয়াড়দের নিয়ে এ ভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই লড়াইয়ে রোনালদোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে। ভোটে দ্বিতীয় হয়েছে মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অর জয়।

সম্প্রতি নিজেকে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় দাবি করেন রোনালদো। ‘বোট’ জয়ের পর তার আত্মবিশ্বাস আরো বেড়ে যাবে নিশ্চিতভাবেই।

আরেকটি সুখবর রয়েছে রোনালদোর জন্য। গতকাল সৌদি আরবের সংবাদপত্র আররিয়াদিয়াহ জানায়, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) নভেম্বরের আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য রোনালদোকে ছেড়ে দিতে আল নাসরের কাছে একটি অনুরোধ পাঠিয়েছে। এতে ৪১ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকারের পর্তুগাল দলে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও তার দলে খেলার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে কোচ হোর্হে জেসুসের ওপর।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে কোপেনহেগেনে পর্তুগাল জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়ে চলে যান রোনালদো। কোচ তার দলের পরিকল্পনা নিয়ে দেয়া কথা রাখেননি বলে অভিযোগ করেন রোনালদো। পরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রোনালদো জানান, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে তাকে বলা হয়েছিল। তবে বিরতির সময় ওয়ার্ম-আপ করা সত্ত্বেও তাকে মাঠে নামানো হয়নি।

গত ১৯ অক্টোবর এফপিএফ শৃঙ্খলা কমিটি রোনালদোর ওপর ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা ঘোষণা করে। সেই নিষেধাজ্ঞা ১ অক্টোবর থেকে গণনা করা হয়, যার মধ্যে খেলোয়াড়ের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞায় কাটানো সময়ও অন্তর্ভুক্ত। ফলে নভেম্বরের ম্যাচগুলোয় তার খেলতে বাধা নেই।

আগামী ১৫ নভেম্বর ব্রাহায় ডেনমার্ককে আতিথ্য দেবে পর্তুগাল। ১৮ নভেম্বর তারা যাবে ওয়েলস সফরে। এ দুটি ম্যাচে কি দেখা যাবে পর্তুগালের ইতিহাসসেরা ফুটবলারকে? —ইএসপিএন