সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়ার প্রায় পৌনে তিন মাস পর নওগাঁর পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরেছে। গতকাল বিকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে তাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছলে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন। পরে নিজ নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
নিহত পাঁচজন হলেন নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার সজিব ও সাধনগর গ্রামের সাগর আলী।
এর আগে গতকাল সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সাতজনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সরকারি ব্যবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো নিহতদের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশী নিহত হন। তাদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। ঘটনার ১৮ দিন পর গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় নওগাঁর সাতজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছিল। তবে মরদেহগুলো পুড়ে চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় বাকি ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দেয়। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এর পরই পৌনে তিন মাস পর বাকি সাতজনের মরদেহ দেশে ফিরল। এদের মধ্যে দুজন নাটোরের এবং বাকি পাঁচজনই নওগাঁর।
গতকাল বিকালে নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে একে একে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছতে থাকে। অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। গাড়ি থামতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। কেউ কফিন জড়িয়ে ধরেন, কেউ নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। যে ছেলেকে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, সেই ছেলের নিথর দেহই শেষ পর্যন্ত ফিরল বাড়িতে।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের দাফন-কাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে পরিবারপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। তিন মাস পর সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তিন লাখ টাকা করে অনুদান দেয়া হবে।’
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা খরচে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’










