পেমেন্ট জটিলতার কারণে ২০২০ সালে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল বহুল প্রচলিত ব্যাটল গেমস ফোর্টনাইট। তবে চার বছর পর আবারো অ্যাপলের অ্যাপ হিসেবে ফেরে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ভিডিও গেমটি। তবে প্রাথমিকভাবে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অ্যাপল ব্যবহারকারীরা গেমসটি খেলতে পারবেন। খবর বিবিসি।
ইইউর নতুন আইনানুসারে অ্যাপল তাদের অ্যাপ স্টোরে থার্ড পার্টি অ্যাপ রাখছে। ফলে বর্তমান অঞ্চলটির ব্যবহারকারী এ সুবিধা পাচ্ছে। পৃথিবীর অন্য অঞ্চলগুলোয় এ ধরনের আইন নেই। ফলে ইউরোপের বাইরের অ্যাপল ব্যবহারকারীরা আপাতত গেমটি খেলতে পারছে না। এপিক গেমস নামের একটি মার্কিন কোম্পানি ফোর্টনাইট তৈরি করেছে।
গেমটি ডাউনলোড করতে ব্যবহারকারীদের তাদের ফোনে একটি বিকল্প অ্যাপ স্টোর ইনস্টল করতে হবে। বিকল্প অ্যাপ স্টোরের মধ্যে একটি হলো নতুনভাবে চালু হওয়া ‘এপিক গেমস স্টোর’। স্টোরটি প্রথমবারের মতো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে চালু করা হয়েছে।
ফোর্টনাইট নির্মাতা এপিক গেমসটি ইনস্টলের ‘দীর্ঘ’ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছে। এর জন্য অ্যাপল ও গুগলকে দায়ী করেছে কোম্পানিটি। এপিকের ভাষ্য, গেমস ইনস্টলের প্রক্রিয়াকে কঠিন করেছে কোম্পানি দুটি। এছাড়া ইনস্টল সহজ করার পরিবর্তে বহু ধাপ জুড়ে দেয়া হয়েছে। বিদঘুটে ইন্টারফেস ও বিভ্রান্তিকর ডিভাইস সেটিংসের মাধ্যমে ইনস্টলের অভিজ্ঞতাকে আরো খারাপ বানিয়েছে।
এদিকে অ্যাপল এক বিবৃতিতে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আইনে ইইউর ডেভেলপারদের ক্ষমতায়িত করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। আমরা ব্যবহারকারীদের জন্য তা যতটা সম্ভব সহজ করতে কাজ করেছি। একই সঙ্গে তাদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার চেষ্টা করেছি।
ফোর্টনাইট এমন সময় অ্যাপলে ফিরল, যখন গেমটির নতুন সিজন চালু করেছে। মার্ভেলের ডক্টর ডুমের ওপর ভিত্তি করে এ সিজন তৈরি হয়েছে।
গত মার্চে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট নামে একটি নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অ্যাপল তার ডিভাইসে বিকল্প অ্যাপ স্টোর অনুমোদন করতে বাধ্য হয়। তবে বিশ্বের অন্যান্য স্থানে এ ধরনের আইন নেই। ফলে অ্যাপলের অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে যেকোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে হয়।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এপিকের প্রধান টম স্যুইনি বলেন, ‘ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের কারণে ইউরোপে আইওএসে ফোর্টনাইট উন্মুক্ত করা গেছে। তবে অ্যাপল বিশ্বের ১০০ কোটি ব্যবহারকারীকে ফোর্টনাইট ব্যবহার থেকে বঞ্চিত করে চলেছে। এ নিয়ে বিনামূল্যে বাজার প্রতিযোগিতা পুনরুদ্ধারের লড়াই চলছে। তবে অ্যাপল বলছে, তাদের এ সিদ্ধান্ত মূলত ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের স্বার্থে।’










