প্রথমবারের মতো নিজেদের ফ্লিপ ফোন বাজারে এনেছে শাওমি। এরই মধ্যে ফোনটির প্রি-অর্ডার ও ডেলিভারি শুরু হয়েছে। পোর্টেবল প্রিন্টার লাগিয়ে ছবি প্রিন্ট করার ফিচারসমৃদ্ধ ফোনটির দাম শুরু হবে ৮২৫ ডলার (সর্বশেষ বিনিময় হারে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৯৭ হাজার টাকার কাছাকাছি)। খবর সিএনবিসি। 

চীনা কোম্পানিটি একই দামে তাদের ফোল্ডেবল ফোনের হালনাগাদ সংস্করণ ‘দ্য মিক্স ফোল্ড ৪’ উন্মোচন করেছে। এর আগের সংস্করণটির দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ২৪২ ডলার (এক লাখ ৪৫ হাজার টাকার বেশি)। 

ফোনটির উন্মোচন অনুষ্ঠানে শাওমির প্রতিষ্ঠাতা লেই জুন ফোনটি কীভাবে স্ক্রিনের উভয় দিকে একটি ভাষার অনুবাদ প্রদর্শন করে তা বর্ণনা করেন। তবে তিনি ফোনটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সক্ষমতা নিয়ে তেমন আলোচনা করেননি। পোর্টেবল প্রিন্টারটির সরবরাহ খুব কম বলেও জানান লেই। 

এর আগে গত মার্চে টেসলার মডেল ৩ গাড়ির তুলনায় সাশ্রয়ী দামে নিজেদের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) এসইউ৭ বাজারে এনেছিল শাওমি। লেই বলেন, গত শুক্রবার পর্যন্ত এসইউ৭-এর সামগ্রিক ডেলিভারি ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। নভেম্বরের মধ্যে প্রায় এক লাখ গাড়ির ডেলিভারি করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। কোম্পানিটির এক কর্মকর্তা জানান, বাড়তি চাহিদা মেটাতে গত মাসে দক্ষিণ বেইজিংয়ে কর্মীদের কর্মঘণ্টা দ্বিগুণ করে ১৬ ঘণ্টা করা হয়েছে। কোম্পানিটিতে দুই হাজার শ্রমিক এবং ৭০০ রোবট কাজ করে। 

লেই বলেন, আগস্টে আসতে যাওয়া এসইউ৭-এর হালনাগাদ সংস্করণে গাড়িটিকে বাইরে থেকে ভয়েস কন্ট্রোল বা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।  

লেই তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শাওমির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকল্প ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে ভেবেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। যেমন দীর্ঘমেয়াদে শাওমির স্মার্টফোন বিক্রি বন্ধ হলে যাতে গাড়ির নির্মাণ ব্যবসা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, অনেক পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এটি করতে ১ হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন ছিল। তবে শাওমির বর্তমান পরিস্থিতিতে গাড়ির ব্যবসার বাজারমূল্য অবাস্তব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের ১ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় কোম্পানিটি।

শাওমি ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করেছিল এবং ওই বছরের মে মাসে দেশটির কালো তালিকা থেকে কোম্পানিটির নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। লেই জানান, আগামী দশকে শাওমি জার্মানির নুরবুর্গরিং রেস ট্র্যাকে চালানোর উপযোগী দ্রুতগামী ইভি তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবে এবং একটি নতুন এসইউ৭ রেস কার সংস্করণের পরীক্ষার কাজ অক্টোবর থেকে শুরু হবে।