চলতি বছর বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারে সামান্য প্রবৃদ্ধি হবে বলে ধারণা করছে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন সরবরাহ আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বাড়বে। এতে মোট সরবরাহ দাঁড়াবে ১২৪ কোটি ইউনিটে।

এর আগে আইডিসি দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সংশোধিত নতুন হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এ বছর অ্যাপলের আইওএস স্মার্টফোনে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাজারকে কিছুটা চাঙ্গা করবে। যদিও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ভোক্তাদের কম চাহিদা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে, তবু নিয়মিত ফোন বদলের প্রবণতা বাজারকে স্থিতিশীল রাখবে। ২০২৪-২৯ সাল পর্যন্ত স্মার্টফোন বাজারে গড়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি (সিএজিআর) হবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

আইডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আরোপিত শুল্কছাড়ের কারণে বাজার এখনো বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েনি। আইডিসির জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল বলেন, ‘শুল্কের ঝুঁকি থাকলেও এখনো বেশির ভাগ নির্মাতার জন্য তা বড় উদ্বেগ হয়ে দেখা দেয়নি। ফোন নির্মাতারা উৎপাদন ও সরবরাহ বৈচিত্র্য আনতে কাজ করছে, যাতে বাজারের চাহিদা পূরণ করা যায়।’

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্য আফ্রিকা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৩ দশমিক ৬ এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (চীন বাদে) প্রবৃদ্ধি হবে দশমিক ৮ শতাংশ। তবে চীনে এবার সরবরাহ ১ শতাংশ কমতে পারে। সরকারি ভর্তুকি কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে দেশটিতে চাহিদা তেমন বাড়ছে না। ফলে আগের ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হয়েছে।

সরবরাহে প্রবৃদ্ধি কম হলেও বাজারমূল্যে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক ভালো হবে। ২০২৫ সালে স্মার্টফোনের গড় বিক্রিমূল্য (এএসপি) ৫ শতাংশ এবং মোট বাজারমূল্য ৬ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইডিসি। নির্মাতারা এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোনে। এর মধ্যে রয়েছে পাতলা নকশা, উন্নত ক্যামেরা, ফোল্ডেবল ফোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) প্রযুক্তি। পাশাপাশি সুদমুক্ত কিস্তি ও নানা প্রমোশনাল অফারের কারণে প্রিমিয়াম ফোন ক্রেতাদের কাছে আরো সহজলভ্য হচ্ছে।

জেনারেটিভ এআই (জেনএআই) সুবিধাসম্পন্ন স্মার্টফোন আগামীতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে আইডিসি। ২০২৫ সালে ৩৭ কোটির বেশি জেনএআই স্মার্টফোন সরবরাহ হতে পারে, যা মোট বাজারের ৩০ শতাংশ। ২০২৯ সালের মধ্যে এ হার ৭০ শতাংশ ছাড়াবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

অন্যদিকে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০২৫ সালে এ খাতে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২৪ সালের ৪ শতাংশ থেকে বেশি। দাম ও টেকসই হওয়া নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ কমে আসায় চাহিদা বাড়ছে। তবে ২০২৯ সালে ফোল্ডেবল ফোন মোট বাজারের ৩ শতাংশের কম হিস্যা দখল করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে নির্মাতাদের এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো কোন অঞ্চলে প্রবৃদ্ধির সুযোগ বেশি, তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা এবং সে অনুযায়ী কৌশল গ্রহণ করা।