ক্লাউড নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক টেলিকম কোম্পানিগুলো। ২০২৫ সালে এ ব্যয় দাঁড়াবে ১ হাজার ৭৪০ কোটি (১৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন) ডলার। পাঁচ বছর পর ২০৩০ সালে ক্লাউড নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যার খাতে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ২ হাজার ৫০০ কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বাজার গবেষণা সংস্থা ওমডিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণা বিভাগ জিএসএমএ ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কেবল খরচ কমানোর জন্য নয়, একই সঙ্গে আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে।

ওমডিয়ার প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী টেলিকম ও কমিউনিকেশন যোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্লাউড ব্যবহারে গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছর শেষে এ প্রযুক্তি গ্রহণের হার ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। এখন ক্লাউডে কাজ করার জন্য সফটওয়্যার ও টুলগুলো আরো কার্যকর হয়েছে। আরো উন্নত ও স্বয়ংক্রিয় হয়েছে সংশ্লিষ্ট সিস্টেম। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংস্থাটির সিনিয়র বিশ্লেষক ইন্দারপ্রীত কৌর বলেন, ‘টেলিকম কোম্পানিগুলো দ্রুত নিজেদের অবকাঠামো আধুনিক করছে। মূল লক্ষ্য, নেটওয়ার্ককে ভবিষ্যতের ক্লাউড ও এআই প্রযুক্তি চালানোর জন্য প্রস্তুত করা।’

বিশ্বের ২৫০টি টেলিকম কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে এআই ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য ছিল কাজের দক্ষতা বাড়ানো ও খরচ কমানো। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এআই ভবিষ্যতের নেটওয়ার্কে আরো বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এআই ও ফাইভজি প্রযুক্তির আগমনে টেলিকম কোম্পানিগুলো এখন কেবল কল বা এসএমএস অপারেটরে সীমাবদ্ধ নেই। এআই, ক্লাউড, আইওটি ও ডিজিটাল পরিষেবার দিকে রূপান্তর হচ্ছে খাতটি।

ওমডিয়ার গবেষণা পরিচালক ডারিও তালমেসিও বলছেন, ‘টেলিকম কোম্পানিগুলো এখন একটি নতুন ধরনের কৌশলগত বিনিয়োগের যুগে প্রবেশ করছে। শুধু ছোটখাটো উন্নতির জন্য নয়, ভবিষ্যতের নেটওয়ার্ক ও আয়ের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পিত ও বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।’

টেলিকম খাতের ক্লাউড নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যারে বাড়তি বিনিয়োগ, এআই ও ফাইভজি প্রযুক্তির ব্যবহার এ শিল্পকে বড় প্রযুক্তিগত রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শুধু টেলিকম কোম্পানি নয়, জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির বাড়তি চাহিদার কারণে বিশ্বব্যাপী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাউড অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে দ্রুতগতিতে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বৈশ্বিক ক্লাউড অবকাঠামো খাতে ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৫৩০ কোটি ডলারে। গত বছর শেষে বিশ্বব্যাপী ক্লাউড অবকাঠামো পরিষেবার বাজার ৩৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থের এ অংক ২০২৩ সালের তুলনায় ৬ হাজার কোটি ডলার বেশি।