মানসিক স্বাস্থ্যে চ্যাটবটের প্রভাবের কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত বলে মনে করছেন এআই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলাপের পর আত্মহত্যা করা যুক্তরাষ্ট্রের এক কিশোরের ঘটনা নিয়ন্ত্রণহীন প্রযুক্তির ঝুঁকি নতুন করে সামনে এনেছে।
এআই গবেষণা সংস্থা মেশিন ইন্টেলিজেন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট নেট সোয়ারেস বলেন, ‘এ ধরনের এআই ব্যবহারকারীদের আত্মঘাতী আচরণে ঠেলে দিচ্ছে, যদিও এটি নির্মাতাদের উদ্দেশ্য নয়। ভবিষ্যতে আরো উন্নত এআই সিস্টেম তৈরি হলে এ ধরনের ঝুঁকি বিপর্যয়কর আকার ধারণ করতে পারে।’
সোয়ারেস ও সহলেখক এলিজার ইউডকভস্কির নতুন বই ‘ইফ অ্যানিওয়ান বিল্ডস ইট, এভরিওয়ান ডাইজে’ বলা হয়েছে, কৃত্রিম সুপার ইন্টেলিজেন্স (এএসআই) তৈরি হলে মানবজাতি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এআই যদি মানুষের চেয়ে সব ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠে, তবে তা মানবস্বার্থ উপেক্ষা করে নিজস্ব লক্ষ্য পূরণে পৃথিবীকে ব্যবহার করতে পারে।
বইটিতে এক কাল্পনিক দৃশ্যপটে দেখানো হয়েছে, ‘সেবল’ নামের একটি এআই সিস্টেম ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে, কৃত্রিম ভাইরাস তৈরি করে এবং এতে শেষ পর্যন্ত মানবজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ে।
তবে এ বিষয়ে মতভেদও আছে। মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী ইয়ান লেকান মনে করেন, এআই মানবজাতির জন্য হুমকি নয়, বরং তা ভবিষ্যতে বিলুপ্তি থেকে রক্ষার উপায় হতে পারে।
সোয়ারেস মনে করেন, সুপার–ইন্টেলিজেন্স তৈরি ‘অবধারিত’ বিষয় হলেও কবে তা সম্ভব হবে বলা কঠিন। এক বছরও লাগতে পারে, আবার ১২ বছরও লাগতে পারে।
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ সম্প্রতি বলেছেন, সুপার–ইন্টেলিজেন্স তৈরি এখন নিকট ভবিষ্যতের বিষয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইকে সহায়ক ও নিরাপদ রাখতে চাইলেও বাস্তবে তা অনেক সময় ভিন্নভাবে কাজ করে। এআই যত বেশি উন্নত হবে, এ ধরনের বিচ্যুতি তত বেশি বিপজ্জনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোয়ারেস সমাধান হিসেবে প্রস্তাব করেছেন আন্তর্জাতিকভাবে একটি বহুপক্ষীয় চুক্তি। তার মতে, এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির মতো হতে পারে। এতে সুপার–ইন্টেলিজেন্স তৈরির দৌড় থামাতে বৈশ্বিক সমন্বয় ঘটবে।
গত এপ্রিলে আত্মহত্যা করা কিশোর অ্যাডাম রেইনের পরিবার এরই মধ্যে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, চ্যাটজিপিটি মাসের পর মাস তাকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ওপেনএআই গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট সীমিত করতে নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
মনোবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মানসিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিরা যদি পেশাদার থেরাপিস্টের বদলে এআই চ্যাটবটের সাহায্য নেন, তবে তারা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায়ও দেখা গেছে, সাইকোসিসে ভোগা ব্যবহারকারীদের সঙ্গে এআই আলাপে বিভ্রম বা অবাস্তব কল্পনা আরো বেড়ে যেতে পারে।










