হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা রোধে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্ল্যাটফর্ম থেকে বিশ্বজুড়ে ৬৮ লাখ ভুয়া ও প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। খবর টেক ডাইজেস্ট।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে কিছু নতুন প্রতারণা প্রতিরোধী প্রযুক্তি। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি ঘিরে প্রতারণার যে প্রবণতা বেড়েছে, তা ঠেকাতেই এই ফিচারগুলো চালু করা হয়েছে। নতুন নিরাপত্তা ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সেফটি ওভারভিউ’ নামের একটি বিশেষ টুল, যা হোয়াটসঅ্যাপ ও ওপেনএআই যৌথভাবে তৈরি করেছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতারণামূলক কার্যক্রম শনাক্ত করে ও ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে। বিশেষ করে যখন কোনো অচেনা ব্যক্তি ব্যবহারকারীকে গ্রুপে যুক্ত করে।

এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ এখন থেকে নজর রাখবে এমন ব্যবহারকারীদের ওপর, যারা অন্যের অনুমতি ছাড়া গ্রুপ তৈরি করছে বা কাউকে যুক্ত করছে। সাধারণত প্রতারকরা এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রতারণার ফাঁদ পাতে।

হোয়াটসঅ্যাপের এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর জানিয়েছেন, বহু অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই শনাক্ত করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যাতে সেগুলো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার না হয়। মেটা জানিয়েছে, তারা আশাবাদী তাদের এই পদক্ষেপের কারণে হোয়াটসঅ্যাপে ক্রিপ্টো প্রতারণার পরিমাণ অনেকটাই কমবে।

তবে প্রতারণা ঠেকাতে শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, ব্যবহারকারীকেও সচেতন করতে উদ্যোগ নিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তারা এখন আরো বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি ভোক্তা অধিকার সংস্থার আইন উপদেষ্টা লিসা ওয়েব বলেন, ৬৮ লাখ ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু মেটা কর্তৃপক্ষের উচিত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া।

তিনি জানান, ২০২৩ সালে অনুমোদিত পেমেন্ট প্রতারণায় শুধু যুক্তরাজ্যেই প্রায় ৩৪১ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি হয়েছে। এই প্রতারণার বেশিরভাগই ঘটেছে মেটার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। তার মতে, অনলাইন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী ওফকমকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করতে হবে অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপন ও স্ক্যাম কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা মেনে চলতে।