মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই ম্যাপস ব্যবহার ও বার্তা পাঠানোর নতুন প্রযুক্তি আনতে যাচ্ছে অ্যাপল। টেক জায়ান্টটি স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে এমন এক ফিচার তৈরি করছে, যাতে ব্যবহারকারীরা ফোনের সিগন্যাল ছাড়াই নেভিগেশন ও যোগাযোগ করতে পারবেন। খবর ইন্ডিয়া টুডে।
বিশ্লেষক মার্ক গুরম্যান বলছেন, অ্যাপল এমন একটি পরিষেবা তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জরুরি অবস্থায় কিংবা নেটওয়ার্কবিহীন দূরবর্তী এলাকায়ও যোগাযোগ রাখতে পারেন। ২০২২ সালে আইফোন ১৪ সিরিজের সঙ্গে অ্যাপল ‘ইমারজেন্সি এসওএস বাই স্যাটেলাইট’ সুবিধা চালু করেছিল। এতে সেলুলার সেবা না থাকলেও উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেত। এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অফলাইন ম্যাপস ও বার্তা পাঠানোর সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
গুরম্যান বলেন, ‘অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ “স্যাটেলাইট কানেক্টিভিটি গ্রুপ” বর্তমানে এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা ফোনকে সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত করবে। এ কাজে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট অপারেটর গ্লোবালস্টারের সঙ্গে কাজ করছে।’
গ্লোবালস্টার বর্তমানে অ্যাপলের এসওএস ফিচার পরিচালনা করছে। প্রকৌশলীরা ‘ন্যাচারাল ইউজেজ’ নামে নতুন একটি পদ্ধতির ওপর কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এতে ফোন আকাশের দিকে তাক না করেও সংযোগ পাওয়া যায়।
অর্থাৎ ফোন পকেট বা গাড়ির ভেতর থাকলেও স্যাটেলাইট লিংক সচল থাকবে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পরবর্তী প্রজন্মের আইফোনে ফাইভজি এনটিএন বা নন-টেরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্ক সুবিধা যুক্ত হতে পারে। এতে মোবাইল টাওয়ার ও স্যাটেলাইট মিলিয়ে আরো স্থিতিশীল সংযোগ পাওয়া যাবে। ভারতের মতো গ্রামীণ বা দুর্বল নেটওয়ার্কযুক্ত এলাকায় এটি নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ নিশ্চিত করবে।
অ্যাপল শুধু নিজের অ্যাপ নয়, অন্যান্য অ্যাপকেও এই স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবহারের সুযোগ দিতে চায়। এতে ভ্রমণ, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত অ্যাপগুলো ইন্টারনেট ছাড়াই কাজ করতে পারবে, বিশেষ করে জরুরি অবস্থায়।
স্যাটেলাইট যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বর্তমানে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ইলোন মাস্কের স্পেসএক্স এরই মধ্যে টি-মোবাইলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে স্যাটেলাইট মেসেজিং আনছে। ভেরাইজন ও এটিঅ্যান্ডটি একই ধরনের প্রকল্পে কাজ করছে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ও মোবাইল অপারেটরের ওপর নির্ভরতা কমাতে অ্যাপলও এমন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।









