টিকটকের মার্কিন ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউজ। তাই একটি চুক্তি অনুমোদন দিতে চলছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপটি চীনের মালিকানা থেকে বেরিয়ে আসবে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, আন্দ্রেসেন হোরোভিটজ, ব্ল্যাকস্টোন ও অন্যান্য বড় বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান টিকটকের প্রায় অর্ধেক মালিকানা পাবে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টিকটক ইউনিটকে বেইজিংয়ের মূল সংস্থা বাইটড্যান্স থেকে আলাদা করা হবে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
অন্যদিকে টিকটকের বর্তমান বড় বিনিয়োগকারী যেমন জেনারেল আটলান্টিক, সুসকেহানা, কে কে আর ও কোটু মার্কিন ইউনিটে প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবসার অংশীদারত্ব পাবে।
তবে এসব পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরিবর্তন হতে পারে বলে জানা গেছে। ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় টিকটককে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের কাছে স্বত্বাধিকার বিক্রি না করলে অ্যাপটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে। তাই আজই যুক্তরাষ্ট্রে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হতে চলেছে।
প্রতিবেদন বলছে, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ট্রাম্পের পাশাপাশি বাইটড্যান্স ও চীনা সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। যদিও চীন আগে এ ধরনের লেনদেনের বিরোধিতা করেছিল, তবে তারা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। চুক্তির শর্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বাইটড্যান্স টিকটকের ২০ শতাংশের কম অংশীদারত্ব পাবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, বিদেশী প্রতিপক্ষ মার্কিন ব্যবসার এক-পঞ্চমাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে তিন-চার মাস সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিনিয়োগের কাঠামো চূড়ান্ত করা, আর্থিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হবে।
তবে টিকটকের অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো বিতর্ক চলমান। চীনের দাবি, বাইটড্যান্স অ্যালগরিদম পরিচালনা করবে। মার্কিন ইউনিট এটি কেবল লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যবহার করবে। তবে কিছু বিশ্লেষক বলছেন, মার্কিন আইনের শর্ত পূরণ করতে হলে পুরো অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন ইউনিটের হাতেই থাকতে হবে।
এদিকে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসও শেষ মুহূর্তে টিকটকের মার্কিন ইউনিট কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা প্রথম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করেছিল। তবে বর্তমান বিনিয়োগকারীদের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবকেই প্রধান বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।










