বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এখনো সবচেয়ে বিপজ্জনক হুমকি র্যানসমওয়্যার। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ সংস্থা র্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে। জার্মানিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হর্নেট সিকিউরিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। সাইবার সিকিউরিটিবিষয়ক সংস্থাটির গত অক্টোবরের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২১ সালে জরিপ শুরুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে কম র্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে ২০২৪ সালে।
র্যানসমওয়্যার আক্রমণের মাধ্যমে হ্যাকাররা কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিয়ে ফাইল এনক্রিপ্ট বা লক করে দেয়। এরপর ব্যবহারকারী সেগুলোয় আর প্রবেশ করতে পারে না। এ বছরের র্যানসমওয়্যার আক্রমণের জরিপে হর্নেট সিকিউরিটি টিম শুধু সংখ্যা ও প্রভাবই নয় বরং সংস্থাগুলো কীভাবে এ জটিল হুমকির মোকাবেলায় তাদের প্রতিরক্ষা পরিবর্তন করছে, তাও তুলে ধরেছে।
২০২৩ সালের তথ্যানুযায়ী, র্যানসমওয়্যার আক্রমণ থেকে ডাটা পুনরুদ্ধার করা এখন আরো কঠিন হয়ে গেছে। প্রযুক্তিগত কারণে এসব আক্রমণের জটিলতা বাড়ছে। এখন অনেক সংস্থা তাদের ডাটা পুনরুদ্ধারের জন্য অর্থ দিতে বাধ্য হয়। অর্থের বিনিময়ে ডাটা পুনরুদ্ধারের ঘটনা ২০২৩ সালে ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে এটি ১৬ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, যেহেতু র্যানসমওয়্যার ব্যক্তির ফাইল বা একটি প্রতিষ্ঠানের পুরো সিস্টেমকে এনক্রিপ্ট করে, ফলে সেগুলোয় অ্যাকসেস অসম্ভব হয়ে যায়। তাই ডাটার পুনরুদ্ধারের বিনিময়ে সাইবার অপরাধীরা বড় অংকের অর্থ (মুক্তিপণ) দাবি করে। এসব লেনদেন প্রায়ই ক্রিপ্টোকারেন্সিতে হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালে যেসব প্রতিষ্ঠান র্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে, তাদের ১৬ দশমিক ৩ শতাংশই ডাটা পুনরুদ্ধারের জন্য অর্থ পরিশোধ করেছে। টানা গত কয়েক বছর এটি ছিল ১০ শতাংশের নিচে। কারণ প্রযুক্তির সহায়তায় র্যানসমওয়্যার আক্রমণ আরো উন্নত হচ্ছে। এখন আক্রমণকারীরা শুধু মূল সিস্টেমই নয়, ব্যাকআপগুলোও লক্ষ্য করছে। ফলে জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে ডাটা ব্যাকআপ রেখেও ক্ষতি এড়ানো যাচ্ছে না। র্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার এমন সংস্থার ১৪ শতাংশ জানিয়েছে, আক্রমণের সময় তাদের ব্যাকআপ স্টোরেজ প্রভাবিত হয়েছে। ফলে তাদের অর্থ পরিশোধের ওপর নির্ভর করতে হয়।
হর্নেট সিকিউরিটির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর র্যানসমওয়্যার আক্রমণের ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ ই-মেইল বা ফিশিং আক্রমণের কারণে হয়েছে। ফিশিং আক্রমণে হামলাকারীরা কর্মীদের ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে বা সংক্রমিত অ্যাটাচমেন্ট খুলতে প্রলুব্ধ করে। কর্মীরা অজান্তে ম্যালওয়্যার ডাউনলোড করেন অথবা এমন তথ্য সরবরাহ করেন, যা হামলাকারীদের গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্ট বলছে, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সাপ্তাহিক গড়ে ১ হাজার ৮৭৬টি সাইবার আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে। গত প্রান্তিকে বিভিন্ন ধরনের সাইবার আক্রমণের মধ্যে র্যানসমওয়্যার আক্রমণ ছিল পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কিছুটা কম। গত প্রান্তিকে এমন ১ হাজার ২৩০টি ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর আমেরিকা। মোট র্যানসমওয়্যার আক্রমণের ৫৭ শতাংশই ছিল ওই অঞ্চলে। এরপর ইউরোপ ২৪ ও এশিয়া-প্যাসিফিক ১৩ শতাংশ। এ ধরনের আক্রমণে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত। এরপর আছে স্বাস্থ্যসেবা ও খুচরা বা পুনর্বিক্রয় খাত।










