চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী কিশোর অ্যাডাম রেইনের আত্মহত্যায় সহায়তার মামলা করেছিল পরিবার। তবে ওপেনএআই গত সপ্তাহে দাবি করেছে, কিশোরের মৃত্যুতে সংস্থাটির কোনো দায় নেই। এ বিষয়ে কোম্পানিটির বক্তব্য হলো ‘ রেইনে সঠিকভাবে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেনি। সুতরাং তার মৃত্যুতে ওপেনএআইয়ের কোনো দায় নেই।’ খবর দ্য গার্ডিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কিশোর অ্যাডাম রেইনের পরিবারের পক্ষ থেকে গত আগস্টে ওপেনএআই ও এর সিইও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে ‘অযাচিত মৃত্যুর’ মামলা করা হয়।
পরিবারটির অভিযোগে বলা হয়, তাদের ছেলে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার বিষয়ে আলাপের পর নিজের জীবন শেষ করেছে।
কিশোরের পরিবারের আইনজীবীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডাম রেইনের মৃত্যু হয় গত এপ্রিলে। চ্যাটজিপিটির সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথন এবং ‘মাসব্যাপী উৎসাহ’ পাওয়ার পর সে এ পদক্ষেপ নেয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কিশোরটি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে একাধিকবার আত্মহত্যার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছিল। পদ্ধতিটি কার্যকর হবে কিনা তাও জানিয়েছে চ্যাটবটটি। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য আত্মহত্যার নোট লিখতেও সাহায্য করেছিল প্রযুক্তিটি।
মামলায় আরো বলা হয়, রেইনের ব্যবহার করা চ্যাটজিপিটি সংস্করণে আগে থেকেই নিরাপত্তার ঝুঁকি ছিল। কোম্পানি এ বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও তাড়াহুড়ো করে আপডেট বাজারে আনে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সুপিরিয়র কোর্টে মঙ্গলবার দাখিল করা নথিতে ওপেনএআই বলেছে, ‘দুঃখজনক এ ঘটনা চ্যাটজিপিটির কারণে নয়, অ্যাডাম রেইনের নিজস্ব ভুল ও অনুমোদনবিহীন ব্যবহার, অপ্রত্যাশিত বা অযথাযথ ব্যবহার থেকে উদ্ভূত বা তার সঙ্গে যুক্ত।’
এআই গবেষণা সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, প্লাটফর্মের ব্যবহার শর্তাবলিতে চ্যাটজিপিটিকে আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির পরামর্শ দেয়ার জন্য জিজ্ঞাসা করা নিষিদ্ধ। এছাড়া চ্যাটজিপিটির তথ্য ব্যবহার করার সময় নিজের বিচারবুদ্ধি বা অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভর করা জরুরি, শুধু চ্যাটবটের কথার ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না।
৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কোম্পানি ওপেনএআই বলছে, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত মামলা নিয়ে তারা সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও সম্মানের সঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি কোনো মামলা থাকুক বা না থাকুক, কোম্পানিটি নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নত করতে এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কাজ করবে।










