বিশ্বব্যাপী আগামী বছর তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে ব্যয় বাড়বে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের শেষে এ খাতে মোট ব্যয় পৌঁছবে ৬ দশমিক শূন্য ৮ ট্রিলিয়ন বা ৬ লাখ ৮ হাজার কোটি ডলারে। বৈশ্বিক শিল্প খাতের গবেষণা ও পরামর্শকপ্রতিষ্ঠান গার্টনারের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগে জেনএআই বা জেনারেটিভ এআইকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

গার্টনারের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশ্লেষক জন-ডেভিড লাভলক বলেন, ‘২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) শুরু হওয়া আইটি ব্যয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বছরের বাকি সময়ে অনেক কোম্পানি আইটি বা প্রযুক্তি খাতে বড় ব্যয় করার পরিকল্পনায় রয়েছে।’

এর আগে গার্টনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতে ব্যয় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৫ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন বা ৫ লাখ ৭৪ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে।

কোম্পানিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট লাভলক ওই সময় বলেন, ‘বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বর্তমান জেনএআইয়ের বিনিয়োগে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করছে।’

তিনি পূর্বাভাস দেন ২০২৫ সাল থেকে কোম্পানির চিফ ইনফরমেশন অফিসাররা (সিআইও) জেনএআইতে বিনিয়োগ শুরু করবে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালে জেনএআই প্রযুক্তির উত্তেজনা অনেকটাই কমে আসতে পারে। কিন্তু এর ফিচারগুলো এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব ফিচার বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় সামনের দিনগুলোয় আইটি ব্যয় আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

লাভলক আরো বলেছেন, আইটি খাতের সব উপখাতে ব্যয় সমানভাবে হবে না। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে সাধারণ ডিভাইস এবং ডাটা সেন্টার সিস্টেমের ব্যয় দ্রুত বাড়লেও সফটওয়্যার ও পরিষেবায় খরচ সে গতিতে বাড়ছে না।

চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) মোবাইল ফোন ও পিসির শক্তিশালী বিক্রি গোটা ডিভাইস বাজারের প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫ সাল শেষে ডিভাইস খাতে ব্যয় প্রায় ৭৮ কোটি ডলার ছাড়ানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে যা আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। আগামী বছরও ডিভাইসে ব্যয়ও শক্তিশালী থাকবে, তবে বৃদ্ধির হার কিছুটা ধীর হতে পারে।

লাভলক আরো বলেন, ‘ডাটা সেন্টার সিস্টেমের মতো ক্ষেত্রগুলোয় এআই অবকাঠামো নির্মাণের প্রতিযোগিতার ফলে সার্ভারের চাহিদা ও প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা বেড়েছে। বিশেষ করে এআই-অপ্টিমাইজড সার্ভার র‌্যাকের ক্ষেত্রে।’

গার্টনারের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ডাটা সেন্টার সিস্টেমে ব্যয় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছর এ খাতে ব্যয় প্রায় ৫ হাজার কোটি ডলার বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক সার্ভার বিক্রি যা ২০২৩ সালের ১৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৩৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

বাজার গবেষণা সংস্থা আইডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সাপ্লাই চেইনের বাধাসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষতা, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে উদীয়মান প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে যা বৈশ্বিক প্রযুক্তিবাজারের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে।