দ্রুতগতিতে সম্প্রসারণ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোর বাজার। এ ধারাবাহিকতায় ২০২৯ সালের মধ্যে বাজারটির আকার প্রায় ৭৬ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি)।
সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী এআই প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কম্পিউটিং ও ডাটা সংরক্ষণ হার্ডওয়্যারে বিশ্বব্যাপী ব্যয় বেড়েছে ১৬৬ শতাংশ। বিভিন্ন কোম্পানি কয়েক বছর ধরে এআই ও প্রযুক্তিটি সহায়ক অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে।
এআই মডেল পরিচালনা, প্রশিক্ষণ দেয়া ও ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হার্ডওয়্যার (সার্ভার), সফটওয়্যার এবং নেটওয়ার্ক (ক্লাউড) ব্যবস্থার মতো অবকাঠামো।
আইডিসি বলছে, সার্ভারে বিনিয়োগের কারণে এআই অবকাঠামোর বাজার কয়েক বছর ধরে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুনে বিশ্বব্যাপী এআই খাতে ব্যয়ের ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ গেছে ক্লাউড অবকাঠামোয়। এর মধ্যে আছে পাবলিক ক্লাউডও, যেখানে একাধিক প্রতিষ্ঠান একই সার্ভার, স্টোরেজ বা নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবহার করছে।
গত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এআই খাতে মোট ব্যয়ের ৯৮ শতাংশ গেছে সার্ভারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭৩ শতাংশ বেশি। এসব সার্ভারের মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশে এমবেডেড অ্যাকসেলারেটর (জিপিইউ বা এআইয়ের গতির জন্য বিশেষ হার্ডওয়্যার) আছে। এ ধরনের সার্ভারে ব্যয় একই প্রান্তিকে ২০৭ শতাংশ বেড়েছে।
এর আগে আইডিসির বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, ২০২৫ সালের শেষ এবং আগামী বছরের শুরুতে এআই খাতে বিনিয়োগ কিছুটা কমে যাবে। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, বড় কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে।
আইডিসির গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট লিডিসে ফের্নান্দেজ বলেন, ‘আগামী কয়েক বছরে এআই-সম্পর্কিত আরো বড় কিছু বিনিয়োগ ঘোষণা করা হতে পারে। অ্যাকসেলারেটেড সার্ভার ব্যবহারের পরিসর আরো বাড়বে এবং ২০২৬ সালের পরও তা চলতে থাকবে।’
গবেষণা সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, মূলত এডব্লিউএস, অ্যাজুর ও গুগল ক্লাউড প্লাটফর্মের মতো হাইপারস্কেলারের মাধ্যমে এআইয়ের ব্যবহার বা গ্রহণ বাড়বে। পাশাপাশি এআই-ভিত্তিক গবেষণা ও শিক্ষা প্রকল্পগুলোর গুরুত্বও সময়ের সঙ্গে আরো বাড়বে। ফলে এআই অবকাঠামোয় ব্যয় চলমান থাকবে।
আইডিসির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গবেষণাপ্রধান দীপিকা গিরি বলেন, ‘জেনএআই ও এআই এজেন্টের উত্থান পুরো প্রযুক্তি অবকাঠামোর গড়ন বদলে দিচ্ছে।’
পাশাপাশি এআই অবকাঠামোয় স্টোরেজেও ব্যয় বাড়ছে। কারণ এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বিশাল পরিমাণ ডাটা সংরক্ষণ করতে হয়। আইডিসির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে স্টোরেজ খাতে ব্যয় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।










