সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম এক্স (আগের টুইটার) পূর্বপরিকল্পিত লেনদেন (পেমেন্ট) সুবিধা তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ পরিষেবা ইলোন মাস্কের ‘সবকিছুর অ্যাপ বা এভরিথিং অ্যাপ’ তৈরির পরিকল্পনাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে। অ্যাপ গবেষক নিমা ওজি সম্প্রতি এমন তথ্য দিয়েছেন। খবর টেকক্রাঞ্চ। 

এক্সের মালিকানা নেয়ার পর ইলোন মাস্ক ঘোষণা দেন, এক্স হবে ‘এভরিথিং অ্যাপ’। এরপর জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর বিভিন্ন সুবিধা বিভিন্ন সময় এক্সে যুক্ত করছেন তিনি। এভরিথিং অ্যাপকে সুপার অ্যাপও বলা হয়, যেখানে ব্যবহারকারী একটি অ্যাপ্লিকেশন থেকে সব ধরনের কাজ করতে পারবেন। যেমন মেসেজিং, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং, পিয়ার-টু-পিয়ার পেমেন্ট এবং ই-কমার্স কেনাকাটাসহ একাধিক কাজ একটি প্লাটফর্ম ব্যবহার করেই করা। 

গবেষক নিমা ওজি জানান, এক্সের বুকমার্ক ট্যাবের নিচে নেভিগেশন বারে কোম্পানিটি একটি ‘পেমেন্ট’ বাটন যুক্ত করতে যাচ্ছে। তিনি কিছু নতুন ফিচারের কথাও উল্লেখ করেন, যেমন লেনদেন, ব্যালান্স, ট্রান্সফার যুক্ত করা হবে অ্যাপে। ব্যবহারকারী অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক লেনদেন করতে সক্ষম হবেন। এর আগে জানুয়ারিতে অ্যাপের মধ্যে লেনদেন সুবিধাটি চালু করার কথা জানায় এক্স। ইলোন মাস্ক টুইটার অধিগ্রহণের পর তিনি এটিকে এমন একটি প্লাটফর্মে রূপান্তরের পরিকল্পনা করেন, যেখানে ব্যবহারকারী তাদের অ্যাকাউন্টে অর্থ সঞ্চয় করতে ও পেমেন্ট পাঠাতে পারবেন। 

মাস্কের ভাষ্য, অ্যাপটিকে শুধু সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম নয় বরং আর্থিক পরিষেবায় পরিণত করা হবে, যা এক্স ব্যবহারকারীকে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের পাশাপাশি ব্যাংকিং ও পেমেন্টে সুবিধা দেবে। 

গবেষক নিমা ওজির সর্বশেষ অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, পরিষেবাটি শিগগিরই যুক্ত হতে যাচ্ছে এক্সে। এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে আর্ক ইনভেস্টের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাথি উইডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, ‘পেমেন্ট সিস্টেমটি ২০২৪ সালের মাঝামাঝি কোনো সময় আসতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩টি রাজ্যে অর্থ স্থানান্তরের অনুমতি পেয়েছে প্লাটফর্মটির পেমেন্ট ব্রাঞ্চ, এক্স পেমেন্ট। অর্থাৎ নতুন পেমেন্ট সুবিধাটি এসব রাজ্যে আগে চালু করা হবে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময় বিজ্ঞাপন থেকে আয় করতে কিছুটা হিমশিম খাচ্ছে এক্স। এ কারণে কোম্পানিটি অর্থ উপার্জনের একটি নতুন উপায় হিসেবে এ পেমেন্ট সার্ভিস চালু করছে। এছাড়া মাইক্রো ব্লগিং প্লাটফর্মটি দিন দিন তাদের সক্রিয় ব্যবহারকারীও হারাচ্ছে। কোম্পানিসংশ্লিষ্টের বরাত দিয়ে গত বছর শেষের দিকে সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি এ তথ্য জানায়। 

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইলোন মাস্কের তত্ত্বাবধানে আসার পর থেকেই এ প্লাটফর্মে দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ম্যাশাবেলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাস্কের মালিকানায় আসার পর দৈনিক প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ সক্রিয় ব্যবহারকারী হারাচ্ছে এক্স। মাস্ক মালিকানায় আসার পর ব্যবহারকারীর যেই সংখ্যা প্রকাশ করেছিলেন, তা আরো কম ছিল বলেও জানায় সংবাদমাধ্যমটি। এক পরিসংখ্যানে ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে টুইটারের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ২৫ কোটি ৯৪ লাখ। মাস্ক অধিগ্রহণের পর অন্তত ৫ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী কমেছে বলে পরিসংখ্যানে জানানো হয়।