ঘৃণাসূচক বক্তব্য ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আগের কঠোর নীতি কিছুটা শিথিল করেছে ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা। চলতি বছর এ নীতি পরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিক ‘ইন্টেগ্রিটি রিপোর্ট’ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফেসবুকে সহিংস কনটেন্ট, বুলিং ও হয়রানিমূলক আচরণ কিছুটা বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে, আগের তুলনায় কনটেন্ট অপসারণের পরিমাণ কমেছে প্লাটফর্মে। খবর এনগ্যাজেট।
উল্লেখ্য, মেটা প্লাটফর্মে কতটুকু ক্ষতিকর, বিভ্রান্তিকর বা সহিংস কনটেন্ট শনাক্ত হয়েছে, কতগুলো সরানো হয়েছে এবং কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয় ইন্টেগ্রিটি রিপোর্টে।
প্রতিবেদন বলছে, সম্প্রতি ক্ষতিকর পোস্ট বাড়লেও, মেটার কনটেন্ট অপসারণের পরিমাণ কমেছে।
এ বিষয়ে মেটার প্রতিবেদন দাবি করছে, প্রতিষ্ঠানটি কনটেন্ট সরানোর ক্ষেত্রে ‘ভুল’ করার হার অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষতিকর কনটেন্টের পরিমাণ একই রকম রয়ে গেছে। এসব কনটেন্ট না বাড়া ও ভুলবশত কনটেন্ট সরানোর ঘটনা কমে যাওয়াকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি এসব তথ্যকে নিজেদের নীতিগত পরিবর্তনের একটি সফলতা হিসেবেই তুলে ধরছে।
যদিও মেটা দাবি করেছে যে বেশির ভাগ ক্ষতিকর কনটেন্টের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে, তবু দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, প্লাটফর্মে ২০২৪ সালের শেষ দিকে সহিংস ও গ্র্যাফিক কনটেন্ট দেখা যেত দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
মেটার ব্যাখ্যায়, এ প্রবৃদ্ধির কারণ হলো এসব কনটেন্ট বেশি শেয়ার হওয়া। এছাড়া আর মেটার চেষ্টা ছিল যেন ভুলভাবে কনটেন্ট সরানো না হয়, ফলে আগের মতো কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আরেকটি ক্ষেত্র হলো বুলিং ও হয়রানি, যা গত বছরের তুলনায় এ বছর বেড়েছে আনুমানিক দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
মেটার তথ্যমতে, ঘৃণামূলক কনটেন্ট নীতির আওতায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কেবল ৩৪ লাখ পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বনিম্ন।










