স্মার্টওয়াচ এখন আর শুধু প্রযুক্তিপ্রেমীদের গ্যাজেট নয়, বরং হয়ে উঠেছে অনেকের নিত্যসঙ্গী। তবে এটি কেনার সময় দামই বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে দাম যত বেশি, মানও তত ভালো কিনা। নাকি শুধু ব্র্যান্ডের নামের জন্যই খরচটা বেশি। সস্তা ও দামি স্মার্টওয়াচের মধ্যে মূল পার্থক্য নিয়ে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট স্ল্যাশগিয়ার।

পরিসংখ্যান বলছে, বৈশ্বিক স্মার্টওয়াচ বাজারের প্রায় ৩০ শতাংশ দখল করে রেখেছে অ্যাপল। এর অন্যতম কারণ হলো, অ্যাপল ওয়াচ ও আইফোনের মধ্যে চমৎকার সমন্বয়। আইফোন ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যাপল ওয়াচ একটি সহজ ও কার্যকর বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১০-এ যুক্ত হয়েছে উন্নত ডিজাইন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সেন্সর ও দ্রুত চার্জিং সুবিধা। তবে এর প্রাথমিক দাম ৩৯৯ ডলার, যা অনেকের বাজেটের বাইরে। কিছুটা কম ফিচারযুক্ত এ সংস্করণের দাম ২৪৯ ডলার।

অন্যদিকে ২০০ ডলারের নিচে অনেক স্মার্টওয়াচ এখন বাজারে পাওয়া যায়। এসব সস্তা ঘড়িতে বিল্ড কোয়ালিটি, ইকো-সিস্টেম সুবিধা বা অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য ফিচারে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও এগুলো ফোনের সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম একটি পরিপূর্ণ স্মার্ট অ্যাকসেসরিজের ভূমিকা পালন করে। অনেক ব্র্যান্ড এখন স্বল্প দামে কার্যকর স্মার্টওয়াচ তৈরি করছে।

কম দামের ফিটনেস ট্র্যাকারগুলো সাধারণত ১০০ ডলারের নিচে পাওয়া যায় এবং এগুলো হাঁটার হিসাব রাখা, ঘুম পর্যবেক্ষণ ও ব্যায়ামের তথ্য সংরক্ষণে যথেষ্ট। তবে এগুলোয় মিউজিক কন্ট্রোল মেসেজের জবাব দেয়া বা অ্যাপ ইনস্টল করার মতো ফিচার থাকে না।

এদিকে দামি স্মার্টওয়াচগুলো যেমন স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ ৭ বা অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১০-এ ইসিজি পরীক্ষার সুবিধা, ফোন ছাড়াই কল করার সুবিধা অফলাইনে গান সংরক্ষণ, এমনকি অতিরিক্ত অ্যাপ ডাউনলোড করার সুবিধাও রয়েছে। এছাড়া উন্নত হার্ডওয়্যার, ওএলইডি ডিসপ্লে, ভালো স্পিকার ও হ্যাপটিকস ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরো উন্নত করে।

স্বাস্থ্য ও ফিটনেসপ্রেমীদের জন্য এখন একটি অপরিহার্য ডিভাইসে পরিণত হয়েছে স্মার্টওয়াচ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৯২ শতাংশই ডিভাইসটি পরিধান করে নিজের স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ট্র্যাক করতে। ৮৮ শতাংশ স্মার্টওয়াচ ব্যবহারকারী বলেছে যে তাদের ডিভাইসগুলো ফিটনেস-বিষয়ক লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে স্মার্টওয়াচ কেনার সিদ্ধান্তটি নির্ভর করে ব্যক্তির চাহিদার ওপর। যদি শুধু স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও সাধারণ নোটিফিকেশনই দরকার হয়, তাহলে সস্তা স্মার্টওয়াচই যথেষ্ট। তবে ফোনের বিকল্প হিসেবে আরো কিছু ফিচার চাইলে, দামি স্মার্টওয়াচই হতে পারে সেরা পছন্দ।