বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এখন নিয়মিত চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছে। ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৭০ কোটি ব্যবহারকারী প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবটটি ব্যবহার করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চ্যাটবটটি ব্যবহার হয় লেখালেখি, তথ্য খোঁজা বা দৈনন্দিন কাজের সুবিধার জন্য। কিন্তু প্রযুক্তিবিদদের মতে, চ্যাটজিপিটি শুধু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার টুল নয়, এতে এমন অনেক উন্নত ফিচার আছে, যা অনেক ব্যবহারকারী এখনো জানেন না।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট স্ল্যাশগিয়ারের মতে, এসব ফিচারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি হলো ডিপ রিসার্চ, কাস্টম জিপিটি, ফাইল অ্যানালাইসিস, টেম্পোরারি চ্যাটস ও কানেক্টরস। ফিচারগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে কাজ আরো দ্রুত, সহজ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা যায়।

ডিপ রিসার্চ বা গভীর অনুসন্ধান ফিচারটি সবচেয়ে জনপ্রিয় টুলগুলোর একটি। এটি দিয়ে ফ্রি ব্যবহারকারীরাও কাজ করতে পারেন। ডিপ রিসার্চ একসঙ্গে অনেক ওয়েবসাইট, নথি প্রতিবেদন বা গবেষণাপত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ যদি স্বয়ংক্রিয় গাড়ির দুর্ঘটনা ও আইনি দিক নিয়ে তথ্য খুঁজতে চান, তাহলে চ্যাটজিপিটিকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আদালতের রায়, আইন এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতসহ সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন তৈরি করে দিতে পারে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাদা করে খোঁজার ঝামেলা থেকে মুক্তি মেলে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাটবটও অনেক সময় ভুল বা ভিত্তিহীন তথ্য দিতে পারে, তাই ব্যবহারের আগে ডাটাগুলো সঠিকভাবে যাচাই করে নেয়া উচিত।

কাস্টম জিপিটি ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের মতো করে নির্দিষ্ট কাজের জন্য চ্যাটজিপিটির বিশেষ সংস্করণ তৈরি করতে পারেন। এতে কোনো কোডিং বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান লাগে না। শুধু কীভাবে কাজ করবে তা লিখে সংরক্ষণ করলেই হয়। চাইলে অন্য ব্যবহারকারীদের তৈরি মডেলও ‘জিপিটি স্টোর’ থেকে ব্যবহার করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, একজন লেখক নিজের ই-মেইল ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ই-মেইল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নামে একটি কাস্টম জিপিটি বানিয়েছেন, যা বার্তার ধরন অনুযায়ী নম্র ও প্রাসঙ্গিক উত্তর তৈরি করে দেয়। এতে সময় বাঁচে এবং কাজও সহজ হয়।

ফাইল অ্যানালাইসিস ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যেকোনো ধরনের ফাইল যেমন পিডিএফ, এক্সেল, জেসন বা অন্য নথি আপলোড করে বিশ্লেষণ করাতে পারেন। এটি গবেষক, শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীদের জন্য বেশ কার্যকর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এক ব্যবহারকারী ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ও হ্যালুসিনেশন নিয়ে একটি জটিল চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণাপত্র আপলোড করেছিলেন। চ্যাটজিপিটি তা সংক্ষেপে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছিল।

টেম্পোরারি চ্যাটস ফিচারটি ওয়েব ব্রাউজারের ইনকগনিটো মোডের মতো কাজ করে। এ মোড চালু করলে চ্যাটজিপিটি কোনো কথোপকথনের তথ্য সংরক্ষণ করে না বা ভবিষ্যতে তা মনে রাখে না। এতে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় থাকে, বিশেষ করে কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা অ্যাকাউন্টে কাজের সময় এটি খুবই উপকারী।

সবশেষে, কানেক্টরস ফিচারের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটিকে জিমেইল, গুগল ড্রাইভসহ বিভিন্ন অ্যাপ বা সেবার সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এতে ব্যবহারকারীর ই-মেইল, ক্যালেন্ডার বা ফোল্ডার থেকে তথ্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে বা নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে পারে চ্যাটজিপিটি। এমনকি কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে তাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন ও অনলাইন তথ্য একত্র করে বিশ্লেষণ করতে পারে।

এআই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাটজিপিটি শুধু প্রশ্নোত্তরের জন্য নয়, বরং এটি এক পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সহকারী। যদি ডিপ রিসার্চ, কাস্টম জিপিটি, ফাইল অ্যানালাইসিস, টেম্পোরারি চ্যাটস এবং কানেক্টরসর মতো ফিচারগুলো কাজে লাগানো যায়, তবে গবেষণা, লেখালেখি, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগের কাজ আরো সহজ ও কার্যকর হতে পারে।