গত পাঁচ দশক প্রযুক্তিজগতে বিশাল একটি নাম মাইক্রোসফট। সফটওয়্যার কোম্পানিটি সম্প্রতি ৫০ বছরে পা রাখল। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সবসময় এগিয়ে থাকতে চেয়েছে বিল গেটসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি, নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও থেমে যায়নি। ‘উইন্ডোজ’ অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে মাইক্রোসফট। সাধারণ মানুষের জন্য কম্পিউটার ব্যবহারকে সহজ করে তোলে এটি। এছাড়া ‘ওয়ার্ড’, ‘এক্সেল’ ও ‘পাওয়ারপয়েন্ট’-এর মতো জনপ্রিয় সফটওয়্যার, যা তৈরির মাধ্যমে অফিসের কাজের ধারা বদলে দেয় বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রযুক্তি কোম্পানিটি।
মাইক্রোসফটের প্রভাব এত বড় ছিল যে বহু প্রজন্ম প্রযুক্তিকে চিনেছে মাইক্রোসফট দিয়েই। আজও অনেক মানুষ আছে, যারা কেবল মাইক্রোসফটের তৈরি একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার সিস্টেমই ব্যবহার করেছে।
বেশকিছু কোম্পানি রয়েছে, যারা নিজেদের পণ্যের প্রতীক হয়ে ওঠে, যেমন ফেসবুক মানেই সোশ্যাল মিডিয়া, অ্যামাজন মানেই অনলাইন কেনাকাটা আর গুগল হলো ইন্টারনেট। মাইক্রোসফট ঠিক এমন হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের ক্ষেত্রে। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম মানুষকে কম্পিউটারের ভেতর দিয়ে বাইরের ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়।
শৈশবের দুই বন্ধু বিল গেটস ও পল অ্যালেন মিলে কোম্পানিটি নির্মাণ করেন। গত ৫০ বছরে প্রযুক্তি জগৎ অনেক বদলেছে। কখনো উন্নতি, কখনো ঝুঁকি—সবকিছুই পেরিয়ে এসেছে মাইক্রোসফট। এ যাত্রা শুরু হয়েছিল দুই প্রযুক্তিপ্রেমী বন্ধু এবং একটি ম্যাগাজিন কভারের মাধ্যমে।
স্ট্যাটকাউন্টারের তথ্যানুযায়ী, এখনো বিশ্বজুড়ে ৭০ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী মাইক্রোসফটের পিসি অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে।
শুরুর কথা
মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল, তবে এর শিকড় গাঁথা শুরু হয় ওই বছরের জানুয়ারিতেই। পল অ্যালেন পপুলার মেকানিকস ম্যাগাজিনের ওই মাসের কভার এনে দেখান বন্ধু বিল গেটসকে। তখনকার দিনে কোনো প্রযুক্তিপণ্য ম্যাগাজিনের কভারে এলে বোঝা যেত বড় কিছু আসতে চলেছে। ওই সংখ্যার কভারে ছিল ‘আলটেয়ার ৮৮০০’। এটিই পরবর্তী সময়ে প্রথম সফল মাইক্রোকম্পিউটার হিসেবে পরিচিত হয়। এর পর থেকে বিল গেটস ও পল অ্যালেন আলটেয়ার ৮৮০০ কম্পিউটারের জন্য একটি প্রোগ্রামিং ভাষার সংস্করণ তৈরির ধারণা পান। তাদের তৈরি সংস্করণটির নাম ছিল ‘আলটেয়ার বেসিক’।

মাইক্রোসফট নামটি এসেছে মাইক্রোপ্রসেসর ও সফটওয়্যার শব্দ দুটি থেকে। প্রথম দিকে এটি মাঝে মাঝে হাইফেন দিয়ে ‘মাইক্রো-সফট’ লেখা হতো। এছাড়া এটি ‘মাইক্রোকম্পিউটারের সফটওয়্যার’ বলেও পরিচিত ছিল।
উইন্ডোজের যাত্রা
মাইক্রোসফট সবচেয়ে পরিচিত উইন্ডোজের জন্য। পিসির সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম এটি। উইন্ডোজের প্রথম পাঁচটি সংস্করণ (১.০ থেকে ৩.১) ছিল এমএস-ডিওএস সিস্টেম-ভিত্তিক। ১৯৯৩ সালে এটি দুটি আলাদা সংস্করণে বিভক্ত হয়—উইন্ডোজ এনটি, যা পেশাদারদের জন্য তৈরি হয়েছিল এবং যার মধ্যে উইন্ডোজ ২০০০ অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যটি উইন্ডোজ ৯এক্স সিরিজ। এ দুই সংস্করণ আবার একত্র হয় ২০০১ সালে উইন্ডোজ এক্সপি উন্মোচনের মাধ্যমে। বর্তমান উইন্ডোজ সংস্করণ হলো উইন্ডোজ ১১। এর পরবর্তী সংস্করণ উইন্ডোজ ১২ চলতি বছর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে কিছু সময় মাইক্রোসফটের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল উইন্ডোজ। ২০০০ সালে প্রকাশিত উইন্ডোজ মি (মিলেনিয়াম এডিশন) স্থিরতাসহ নানা সমস্যার জন্য সমালোচিত হয়। তাই পরবর্তী সময় এর নাম দেয়া হয় ‘মিস্টেক এডিশন’। অনেক চড়াই-উতরাই সত্ত্বেও মাইক্রোসফট বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর একটি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোম্পানিটি ২ দশমিক ৭৮ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে অ্যাপের নিচে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দ্য ন্যাশনাল নিউজ অবলম্বনে










