অ্যালফাবেট ইনকরপোরেটেড মালিকানাধীন টেক জায়ান্ট গুগলের বিরুদ্ধে অ্যাপ মার্কেটে একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগ করা হয়েছিল। কারণ গুগল অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীদের প্লে স্টোরের বাইরে অ্যাপ নামানোর অনুমতি দেয় না। ফলে ডেভেলপারদের অ্যান্ড্রয়েড উপযোগী অ্যাপ শুধু স্টোরটির জন্য তৈরি করতে হয়। জনপ্রিয় অনলাইন ভিডিও গেম ফোর্টনাইটের নির্মাতা এপিক গেমসের অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক বুধবার জানান, গুগল যাতে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের আরো বিকল্প উপায়ে অ্যাপ নামাতে অনুমতি দেয়, সেজন্য টেক জায়ান্টটিকে বাধ্য করতে আদেশ জারির পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। খবর রয়টার্স।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং এপিক গেমস ও গুগলের আইনজীবীদের কাছ থেকে অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় প্রস্তাবিত সংস্কার সম্পর্কিত বক্তব্য শোনার পর সান ফ্রান্সিসকো অঙ্গরাজ্যের জেলা জজ জেমস ডোনাটো বলেন, ‘একচেটিয়ার বিষয় প্রমাণিত হওয়ার পর আপনাদের (গুগল) বিশ্বের ভালোর জন্য জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।’ তিনি ডেভেলপার ও ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে প্লে স্টোরের বাইরেও অ্যাপ তৈরি এবং নামানোর পক্ষে আদেশ জারির ইঙ্গিত দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রায় দেয়া হতে পারে। পাশাপাশি পুরো বিষয় পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। বছরের পর বছর ধরে প্রতিযোগীদের দরজা বন্ধ করে রেখেছিল গুগল। আমরা চাচ্ছি দরজা খুলে যাক এবং প্রতিযোগীরা সুযোগ পাক।’

তবে শুনানির সময় এ বিষয়ে গুগল বা এপিক কোনো মন্তব্য করেনি। নর্থ ক্যারোলাইনাভিত্তিক ভিডিও গেম কোম্পানিটি গুগলের বিরুদ্ধে একচেটিয়া আধিপত্যের পাশাপাশি আরো অভিযোগ করে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা কোনো অ্যাপে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোন উপায়ে করবে তাও গুগল নির্ধারণ করে। এ পুরো বিষয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একটি জুরি বোর্ডকে বোঝাতে সক্ষম হয় এপিক।

গুগল অবশ্য অসুস্থ প্রতিযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জেমস ডোনাটো বলেছে, এপিকের প্রস্তাব মেনে নেয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ তা করলে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অর্থাৎ তৃতীয় পক্ষের কোনো প্লাটফর্ম থেকে অ্যাপ নামানোর সুযোগ দিলে তা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য ক্ষতিকর হবে।