উত্তর আমেরিকার বাজারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পন্ন এয়ার কন্ডিশনার (এসি) আনার পরিকল্পনা করছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। কোম্পানিটি বলছে, এআই ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লেনক্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এসিগুলো বাজারে সরবরাহ করবে স্যামসাং। লেনক্স শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার শীর্ষস্থানীয় মার্কিন পরিবেশক। তাদের এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উত্তর আমেরিকার ক্রমবর্ধমান বাজার ধরতে চায় স্যামসাং। বাজারে আনার প্রক্রিয়া এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধের কোনো একসময় শুরু হবে বলে আশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

স্যামসাং জানিয়েছে, লেনক্সের সঙ্গে অংশীদারত্বে ৫০ দশমিক ১ শতাংশ শেয়ার থাকবে কোম্পানিটির। নতুন এ অংশীদারত্বের মধ্য দিয়ে হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) প্রযুক্তিতে স্যামসাংয়ের ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং উত্তর আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় এইচভিএসি সরবরাহকারীর ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাস ও দক্ষতা একত্রিত হবে।

এক বিবৃতিতে স্যামসাং জানিয়েছে, ‘লেনক্সের সরবরাহ চ্যানেল ব্যবহার করে উত্তর আমেরিকার এইচভিএসি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাচ্ছে স্যামসাং।’

উত্তর আমেরিকায় একক ও বহু পরিবারসম্পন্ন আবাসনে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসির যে চাহিদা তা ধরার লক্ষ্য স্যামসাংয়ের। যদিও বাজারে যেসব পণ্য আনা হবে সেগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এসিগুলোয় দক্ষিণ কোরিয়ায় জনপ্রিয় স্যামসাংয়ের ‘উইন্ডফ্রি’ প্রযুক্তি থাকবে বলে আশা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। উইন্ডফ্রি এমন এক প্রযুক্তি, যেখানে এআই ব্যবহার করে এসির বিভিন্ন সেটিংস স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করতে পারে এবং কম শব্দে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। স্যামসাং জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় এ প্রযুক্তি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সক্ষম।

এলজি ইলেকট্রনিকসও উত্তর আমেরিকায় তাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিটি ডাটা সেন্টার ও অন্য শিল্পে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইউনিট তৈরিতে দক্ষ। রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহকের মন জয় করতে চাচ্ছে এলজি।

এর আগে টেক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টেক জায়ান্ট হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার লক্ষ্যে বিশেষভাবে চীনা গ্রাহকের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচার তৈরি করছে স্যামসাং। টেক জায়ান্টটি আশা করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্মার্টফোনের প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো দিতে সক্ষম হবে, যা চীনের গ্রাহককে আকর্ষণ করবে।