তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিকে (টিএসএমসি) ১০০ কোটি ডলার বা তারও বেশি জরিমানা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কোম্পানিটির তৈরি একটি চিপ চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ের এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রসেসরে ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ জরিমানা হতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিশ্রুত চিপ কারখানা তৈরি না করলে কোম্পানিটির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর রয়টার্স।
রিপাবলিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসনাল কমিটির (আরএনসিসি) অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের কোনো অর্থ দিইনি। শুধু বলেছি, এখানে কারখানা তৈরি না করলে তোমাদের বড় ধরনের কর দিতে হবে।’
এ সময় টিএসএমসিকে দেয়া সাবেক সরকারের অনুদানের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর কোনো অনুদানের প্রয়োজন ছিল না। যদিও এ বিষয়ে টিএসএমসি কোনো মন্তব্য করেনি।
গত মার্চে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এ উদ্যোগে পাঁচটি চিপ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছিল হোয়াইট হাউজ।
এছাড়া দুটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০০ কোটি ডলার বা তারও বেশি অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারে টিএসএমসি। সূত্রমতে, চীনা কোম্পানি সোফগোর জন্য তৈরি একটি চিপ হুয়াওয়ের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এআই প্রসেসর অ্যাসসেন্ড ৯১০বিতে পাওয়া গেছে। হুয়াওয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এছাড়া টিএসএমসির চিপ উৎপাদন টুলগুলোর মধ্যে মার্কিন প্রযুক্তি রয়েছে। তাই তাইওয়ানভিত্তিক কারখানাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়ে। এ কারণে হুয়াওয়ের জন্য চিপ তৈরি করতে পারবে না টিএসএমসি বা কোনো চীনা গ্রাহকের জন্য অত্যাধুনিক চিপ তৈরি করতে হলে মার্কিন লাইসেন্স প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, টিএসএমসি প্রায় ৩০ লাখ চিপ তৈরি করেছে, যা সোফগোর ডিজাইনের সঙ্গে মিলে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরোক্ষভাবে এসব চিপ হুয়াওয়ের কাছে পৌঁছেছে। বিষয়টি মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয়। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি, তবে এমন লঙ্ঘনের জন্য দ্বিগুণ লেনদেন মূল্যের জরিমানা হতে পারে।










