ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও নতুন উদ্ভাবনের কারণে ক্লাউড পরিষেবা খাতের আওতা বেড়ে চলেছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তি খাতের অন্যতম এ বিভাগে যুগপৎভাবে বিনিয়োগ ও ক্রেতাদের ব্যয়ের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ক্লাউড অবকাঠামো খাতে ব্যয় বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে তা ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ডাটা সেন্টার ডায়নামিকস।
আইডিসির প্রতিবেদন অনুসারে, ক্লাউড অবকাঠামোয় ব্যয় এ সময়ের মধ্যে নন-ক্লাউড সেগমেন্টকে ছাড়িয়ে গেছে। সার্ভিস প্রোভাইডার বা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা যেমন ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডার, ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার, কমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার, হাইপারস্কেলার ও ম্যানেজড সার্ভিস প্রোভাইডার চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কম্পিউট ও স্টোরেজ অবকাঠামোয় ৩ হাজার ২২০ কোটি ডলার খরচ করেছে। এ খরচের পরিমাণ মোট ক্লাউড অবকাঠামোর বাজার হিস্যার ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
একই সময় নন-সার্ভিস প্রোভাইডার যেমন এন্টারপ্রাইজ বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো ব্যয় করেছে ১ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাবলিক ক্লাউড অবকাঠামোয় ব্যয় ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময় প্রাইভেট ক্লাউড অবকাঠামোয় ব্যয় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বছরের বাকি সময়ে প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইসিডি। সব মিলিয়ে ক্লাউড অবকাঠামো ব্যয় ১৩ হাজার ৮৩০ কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার পাবলিক ক্লাউড অবকাঠামো ব্যয় থেকে আসবে। এছাড়া নন-ক্লাউড অবকাঠামো ব্যয় এ সময়ের মধ্যে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা আইডিসির।
এর আগে বাজার গবেষণা সংস্থা ক্যানালিস প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ক্লাউড অবকাঠামো খাতে ব্যয় ২১ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে তা ৭ হাজার ৯৮০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার।
ক্যানালিসের প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক পর্যায়ে মোট ব্যয়ের ৬৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস), মাইক্রোসফট অ্যাজুর ও গুগল ক্লাউড। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিগুলোর ব্যয় সম্মিলিতভাবে ২৪ শতাংশ বেড়েছে। এন্টারপ্রাইজ বা ব্যবসায়িক পর্যায়ে ক্লাউড পরিষেবা গ্রহণের হার বেড়ে যাওয়ায় তিনটি কোম্পানির প্রবৃদ্ধিও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে এডব্লিউএস ও গুগল ক্লাউডকে ছাড়িয়ে গেছে মাইক্রোসফট। কোম্পানিটির বিক্রি বার্ষিক হিসেবে ৩১ শতাংশ বেড়েছে, যা এডব্লিউএসের ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দ্বিগুণ। অন্যদিকে গুগল ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
এন্টারপ্রাইজ বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ক্লাউড খাতে তাদের বিনিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে।










