দীর্ঘকাল ধরে ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজ বা ‘দ্য হিচহহিকারস গাইড টু দ্য গ্যালাক্সির’ মতো বিজ্ঞান কল্পকাহিনীতে দেখা গেছে এমন যন্ত্র, যা যেকোনো ভাষা ইংরেজিতে এবং ইংরেজিকে অন্য ভাষায় অনায়াসে অনুবাদ করতে পারে। বিষয়টি এখন বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে। এ ধরনের ট্রান্সলেটর প্রযুক্তি উদ্ভাবন নিয়ে এখন রীতিমতো প্রতিযোগীতায় নেমেছে গুগল, অ্যাপল ও মেটা। এ নিয়ে চূড়ান্ত সাফল্যের দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। খবর সিএনবিসি।
আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠানে সম্প্রতি অ্যাপল একটি ভিডিও প্রদর্শন করে, যেখানে একজন ইংরেজি ভাষাভাষী পর্যটক স্প্যানিশ ভাষাভাষী দেশে ফুল কিনছেন। ফুলবিক্রেতা স্প্যানিশে কথা বললেও পর্যটক তা পরিষ্কার ও বোধগম্য ইংরেজিতে শুনতে পান।
ভিডিওটি মূলত অ্যাপলের নতুন এয়ারপডস প্রো থ্রির প্রচার ছিল। তবে শুধু অ্যাপল নয়, গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট এবং ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটাসহ অন্যান্য টেক জায়ান্টও এ ধরনের রিয়াল টাইম অনুবাদ প্রযুক্তি তৈরি করছে।
২০২২ সালের শেষের দিকে চ্যাটজিপিটি আসার পর প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অনেকের মতে চ্যাটবটের আগমনে রিয়াল টাইম ট্রান্সলেটরের যুগ শুরু হয়ে গেছে।
অ্যাপলের আইফোন ১৭ ইভেন্টে উন্মোচিত এয়ারপডস প্রো থ্রির মূল আকর্ষণ ছিল ‘লাইভ ট্রান্সলেশন’। ২৫০ ডলারের নতুন ইয়ারবাডটির লাইভ ট্রান্সলেশন ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফরাসি, জার্মান, পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ ভাষা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজিতে অনুবাদিত ভাষা শুনতে পারবেন।
দুজন মানুষ যখন এয়ারপডস পরিধান করে কথা বলবেন, তাদের কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই দিকেই অনুবাদ হবে। ফলে প্রতিটি ব্যক্তি নিজের ভাষায় অন্যজনের কথা বুঝতে পারবে। অ্যাপলের ডেমো ভিডিও তাই দেখিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যাপলের নতুন লাইভ ট্রান্সলেশন ফিচার কোম্পানির এআই প্রযুক্তিকে আরো এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। ফিচারটি ব্যবহার করার জন্য এয়ারপডসকে এমন একটি নতুন আইফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে, যা অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সফটওয়্যার চালাতে পারে।
বিশ্লেষক গিল লুরিয়া বলেছেন, ‘যদি এয়ারপডস দিয়ে সরাসরি কথোপকথন অনুবাদ করা যায়, তাহলে এটি ব্যবহারকারীদের নতুন বা উন্নত ডিভাইস কেনার দিকে আকৃষ্ট করতে পারে।’
কেবল অ্যাপল নয়, গত এক বছরে গুগল ও মেটাও রিয়াল টাইম অনুবাদ সক্ষম হার্ডওয়্যার উন্মোচন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, গুগলের পিক্সেল ১০ ফোনে ‘ভয়েস ট্রান্সলেট’ ফিচার রয়েছে, যা ফোন কলের সময় বক্তার ভাষাকে শ্রোতার ভাষায় অনুবাদ করতে পারে।
গুগলের গত আগস্টে লাইভ ডেমোয় দেখায়, ভয়েস ট্রান্সলেট ফিচার বিনোদন শিল্পী জিমি ফ্যালনের একটি বাক্য স্প্যানিশে অনুবাদ করতে সক্ষম হয়েছিল এবং অনুবাদ করা বাক্যেও তার স্বর ঠিক যেমন ছিল তেমনই শোনা যাচ্ছিল। তবে অ্যাপলের ফিচার ব্যবহারকারীর স্বর অনুকরণ করার চেষ্টা করে না।
এদিকে মে মাসে মেটা ঘোষণা করেছে, রে-ব্যান মেটা চশমার স্পিকারের মাধ্যমে অন্যের ভাষা অনুবাদ করা যাবে। কথোপকথনের অন্য পক্ষ ব্যবহারকারীর ফোনে অনুবাদ করা উত্তর দেখতে পাবেন।
সিএনবিসি বলছে, গত কয়েক বছরে শুধু অনুবাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা বিভিন্ন ডিভাইস বাজারে এসেছে। যন্ত্রগুলো দ্রুত ইন্টারনেট ও উন্নত অনলাইন অনুবাদ সেবা ব্যবহার করে কাজ করে। এগুলো সাধারণত ছোট আকৃতির বা হেডফোন আকারে আসে এবং কয়েকশ ডলারের মধ্যে পাওয়া যায়। মূলত এগুলো কথোপকথন বা ভাষা অনুবাদ করার জন্যই ডিজাইন করা।










