ইউটিউবে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী থাকায় এটি সাইবার অপরাধীদের একটি বড় লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। ব্যক্তি যদি সতর্ক না হন, তবে প্লাটফর্মটির মন্তব্য বিভাগে স্ক্যামারদের ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারিত হতে পারেন। ইউটিউবের কমেন্ট সেকশনে এমন কিছু প্রচলিত স্ক্যামের তালিকা প্রকাশ করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মেকইউজঅব—

ক্রিপ্টো স্ক্যাম

ইউটিউবে খুবই পরিচিত একটি প্রতারণা হলো ক্রিপ্টো স্ক্যাম। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিনিয়োগ বা আর্থিকবিষয়ক ভিডিওর ক্ষেত্রে এটি বেশি লক্ষণীয়। এসব কমেন্ট স্ক্যাম এমন প্রোফাইল থেকে আসে, যা দেখতে প্রকৃত অ্যাকাউন্ট মনে হবে। ফলে কমেন্টটি স্ক্যাম কিনা তা শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়। এসব মন্তব্য সাধারণত স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়, যেন কেউ নিজের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছে বা সহায়ক কিছু টিপস দিচ্ছে। তবে এ স্ক্যাম মন্তব্যের নিচে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একাধিক রিপ্লাই থাকে, যা সাধারণত ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়। রিপ্লাইগুলোর উদ্দেশ্য থাকে স্ক্যামটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। এক্ষেত্রে স্ক্যামারদের কেউ মেসেজ পাঠালে বা মন্তব্যে উত্তর দিলে, তাদের সাধারণত একটি টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এসব প্লাটফর্ম ব্যবহার করে স্ক্যামাররা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখে।

গিভঅ্যাওয়ে বা সুইপস্টেক স্ক্যাম

অনেক কোম্পানি ও ইউটিউবার সত্যিকারের গিভঅ্যাওয়ে পরিচালনা করে। ফলে বিনামূল্যে কিছু পাওয়ার বিষয়টা ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের কাছে খবু একটা অবিশ্বাস্য কিছু নয়। এ বিশ্বাসকে পুঁজি করেই স্ক্যামাররা গিভঅ্যাওয়ে বা সুইপস্টেক প্রতারণা করে। প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি কোনো মন্তব্যে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড বা ইউটিউবারের গিভঅ্যাওয়ে দাবি করা হয়, তবে এটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কেবল যাচাইকৃত ইউটিউবারদের মন্তব্য বিশ্বাস করা উচিত বলে পরামর্শ দেন তারা। কখনো কখনো স্ক্যামাররা ইউটিউব ভেরিফিকেশন ব্যাজ নকল করতে অস্বাভাবিক প্রতীক ব্যবহার করে। ফলে যদি সন্দেহ হয়, অ্যাকাউন্টের নাম ক্লিক করে বিস্তারিত দেখতে হবে।

ইনভেস্ট স্ক্যাম

ইনভেস্টমেন্ট স্ক্যাম অনেকটা ক্রিপ্টো স্ক্যামের মতোই, কিন্তু এগুলো আরো বেশি মানুষকে লক্ষ্য করে করা হয়। এসব কমেন্টে দ্রুত টাকা আয় করা বা আর্থিকভাবে উন্নতি করার জন্য প্ররোচিত করা হয়। ইউটিউবে এ স্ক্যাম মন্তব্যগুলো প্রায়ই ‘ফিনফ্লুয়েন্সারদের’ (ফাইন্যান্সিয়াল ইনফ্লুয়েন্সার) ভিডিওর নিচে দেখা যায়। যেহেতু এসব কনটেন্ট জনপ্রিয় ও অনেক ভিউ পায়, তাই স্ক্যাম মন্তব্যগুলো অনেক সময় অজান্তে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

ফিশিং স্ক্যাম

অনেক সময় নতুন কোনো টেক গ্যাজেটের ভিডিওর নিচে প্রি-অর্ডার বা ডিসকাউন্ট দেয়ার জন্য একটি বা একাধিক লিংক মন্তব্যের ঘরে দেখা যায়। এগুলো ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরির জন্য তৈরি করা হয়। তাই নিরাপদ থাকতে, সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করে সবসময় অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করা ভালো।

প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউটিউব ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করার স্ক্যামাররা সবসময় নতুন উপায় খোঁজে। তবে স্ক্যাম মন্তব্য চিনতে সাহায্য করতে পারে কিছু সতর্কতা চিহ্ন। যেমন নতুন প্রোফাইল, অ্যাকাউন্টের নামের বানানে ভুল থাকা, কমেন্টের ভাষায় অসামঞ্জস্যতা, কিংবা অবিশ্বাস্য কোনো অফার দেয়া। এসব সন্দেহজন কার্যকলাপ স্ক্যাম কমেন্ট চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।