কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্মাতা জায়ান্ট এনভিডিয়ার সর্বাধুনিক চিপগুলো শুধু মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। চীনসহ অন্যান্য দেশের কাছে এগুলো বিক্রি করা হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এ প্রচারিত রেকর্ড করা এক সাক্ষাৎকারে এবং পরবর্তী সময়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একই কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি এনভিডিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তির ব্ল্যাকওয়েল সিরিজের চিপ কেবল মার্কিন গ্রাহকরাই ব্যবহার করতে পারবে।’

সিবিএকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘সবচেয়ে উন্নত চিপগুলো আমরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কারো হাতে যেতে দেব না।’ ফ্লোরিডায় সপ্তাহ শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা (ব্ল্যাকওয়েল) চিপ অন্যদের দিই না।’

তার এ বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া যায়, আধুনিকতম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ রফতানিতে ট্রাম্প প্রশাসন আগের চেয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে। যার ফলে চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ সর্বাধুনিক এ সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

যদিও গত শুক্রবার এনভিডিয়া জানিয়েছিল, তারা দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকসসহ আরো কয়েকটি কোম্পানিকে ২ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি ব্ল্যাকওয়েল এআই চিপ সরবরাহ করবে।

গত আগস্ট থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি চীনে ব্ল্যাকওয়েল চিপের কম সক্ষম সংস্করণ বিক্রির অনুমতি দেবেন? সিবিএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে উন্নত ব্ল্যাকওয়েল চিপ চীনা কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করার অনুমতি দেব না। তবে এনভিডিয়ার সঙ্গে তাদের ব্যবসা করতে দেব।’

চীনের সঙ্গে এখন যেকোনো ধরনের ব্ল্যাকওয়েল চিপ বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে বলে অভিমত চীনবিরোধী মার্কিন রাজনীতিকদের। তাদের আশঙ্কা, এ প্রযুক্তি সামরিক সক্ষমতা আরো বাড়িয়ে চীনের এআই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের চীনবিষয়ক বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান জন মুলেনার জানান, চীনে এনভিডিয়ার উন্নতমানের চিপ বিক্রির অনুমতি দেয়া ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির মতো বিপজ্জনক।

এদিকে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি চীনে রফতানির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুমোদন চায়নি। কারণ এ মুহূর্তে চীন তাদের দেশে এনভিডিয়ার উপস্থিতি চায় না।