কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত উত্থান নিয়ে সম্ভাবনার সঙ্গে উদ্বেগও বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির রাজধানী খ্যাত সিলিকন ভ্যালিতে। গত কয়েক বছরে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির মতো এআই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে মানুষের নজর কেড়েছে। পাশাপাশি খাতটিতে বিশাল অংকের বিনিয়োগও এসেছে।

বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা সতর্ক করছেন, এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ ও মূল্যায়নের জোয়ার এক ধরনের ‘এআই বাবল’ বা অতিমূল্যায়িত বাজার তৈরি করছে। এ বাবল যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে, ফলে বড় ধস নামতে পারে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে।

ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান বলেন, ‘এআইয়ের কিছু অংশ বুদবুদ বা বাবলের মতো হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কিছু কোম্পানি বা প্রযুক্তিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব বা দাম দেয়া হচ্ছে। বাজারে এদের মূল্যায়ন বাস্তবের চেয়ে বেশি হতে পারে।’

তবে অল্টম্যান মনে করেন, এআই খাতে কিছু বাবল থাকলেও ভেতরে বাস্তব অগ্রগতিও ঘটছে।

এআই বাবল বলতে এমন পরিস্থিতি বোঝানো হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কোম্পানি বা প্রযুক্তির বাজারমূল্য অল্প সময়ে অনেক বেশি বেড়ে যায়। এমনটা হয় সাধারণত বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত প্রত্যাশার কারণে।

সিলিকন ভ্যালির কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় সম্প্রতি এআই উদ্যোক্তা জেরি ক্যাপলান জানান, তিনি নিজের কর্মজীবনে চারটি পূর্বের ‘বুদবুদ’ দেখেছেন। ক্যাপলান বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন, কারণ এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পরিমাণ ডটকমবুমের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

জেরি ক্যাপলান সতর্ক করে বলেছেন, ‘বাবল ফেটে গেলে খুবই মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হবে। এটি এআই খাতসহ সমগ্র অর্থনীতিকেও টেনে নেবে।’

প্রফেসর আনাত আদমাটি বলছেন, ‘বাজারে কখন বুদবুদ তৈরি হয়, তা আগে থেকে নির্ধারণ করা খুব কঠিন। বুদবুদের অস্তিত্ব শুধু এটি বিস্ফোরণের পর বোঝা সম্ভব।’

ওপেনএআই ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে এআই প্রযুক্তি জনপ্রিয় করেছে তুলেছে। কোম্পানিটি এখনো বিভিন্ন বড় চুক্তিতে যুক্ত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত মাসে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার সঙ্গে ১০ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। এনভিডিয়া নিজেও বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পাবলিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি।

ক্যাপলান বলছেন, যথেষ্ট অর্থ না থাকার পরও বাজার উত্তপ্ত থাকায় কিছু কোম্পানি বড় প্রকল্প ঘোষণা করছে। একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এসব স্টার্টআপে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। মূলত কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীর উত্তেজনার কারণে বাজারে সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এদিকে এআই প্রযুক্তি বিকাশে বিপুল অর্থে নতুন নতুন ডাটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে। এগুলোর বেশির ভাগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলে সতর্ক করেছেন ক্যাপলান।

তিনি বলছেন, ‘মরুভূমির মতো দূরবর্তী অঞ্চলে বিশাল ডাটা সেন্টার তৈরি করা একটি নতুন মানবসৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। একবার এসব সেন্টার পরিত্যক্ত হয়ে গেলে, সেগুলো জং ধরে ক্ষতিকর পদার্থ পরিবেশে ছড়াতে পারে। তখন দায়িত্ব নেয়ার জন্য আর কেউ থাকবে না। —বিবিসি অবলম্বনে