পরিবেশ ও ভূমি রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কর্মীরা সবচেয়ে বেশি অনলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ফেসবুকে। এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি আন্তর্জাতিক জরিপে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা গ্লোবাল উইটনেস পরিচালিত এ সমীক্ষায় অংশ নেয়া ৯০ শতাংশেরও বেশি কর্মী বলেছেন, তারা অনলাইনে সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছেন ফেসবুকে। এরপর আছে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামে। খবর দ্য ভার্জ।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে ২০০ জনের বেশি কর্মীর ওপর জরিপটি চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, এসব হয়রানি কেবল ভার্চুয়াল জগতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব জীবনে শারীরিক হুমকির কারণও হয়ে উঠছে। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৫ শতাংশ মনে করেন, অনলাইনে তারা যে হয়রানির শিকার হন, তা তাদের বাস্তব জীবনের ক্ষতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
গ্লোবাল উইটনেসের ডিজিটাল নিরাপত্তা কার্যক্রমের প্রধান অ্যাভা লি দ্য ভার্জকে জানান, তারা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন নেতিবাচক ফল আসতে পারে, তবে বাস্তব চিত্র আরো উদ্বেগজনক।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ ফেসবুকে, ৩৬ শতাংশ হোয়াটসঅ্যাপে এবং ২৬ শতাংশ ইনস্টাগ্রামে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া ৩৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এক্সেও (পূর্বের টুইটার) অনলাইন নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুকসহ অন্যান্য প্লাটফর্মে ভুল তথ্য ও বিদ্বেষ ছড়ানোর সুযোগ বাড়ছে। কারণ মেটা চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৃতীয় পক্ষের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয় এবং কমিউনিটিভিত্তিক কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি চালু করে। অনেকে মনে করছেন, এ পরিবর্তনের ফলে ভুল তথ্য ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য সহজেই ছড়াতে পারছে।
মেটার মুখপাত্র ট্রেসি ক্লেটন দ্য ভার্জকে জানান, হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। ব্যবহারকারীদের প্লাটফর্মে থাকা বিভিন্ন টুল বা ফিচারের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য বা বার্তা ফিল্টার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি জানান, ফেসবুকে কর্মীদের টার্গেট করে দেয়া পোস্টগুলো পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের পরিবেশ কর্মী ফাত্রিসিয়া আইনের অভিজ্ঞতা আরো উদ্বেগজনক। তিনি জানান, স্থানীয় পাম অয়েল কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ফেসবুকে তাকে কমিউনিস্ট বলা হচ্ছে, যা তার দেশের প্রেক্ষাপটে মারাত্মক বিপজ্জনক অভিযোগ। যদিও তিনি বারবার ফেসবুকে অভিযোগ করেছেন। তবে মেটা বলেছে, ‘এসব পোস্ট বিপজ্জনক নয়’ বলে সরানো যাবে না।
তিনি আরো জানান, বিক্ষোভে অংশ নেয়ার সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করা হয়। এখন প্রতিবাদে গেলে প্রবীণ নারী কর্মীরা তাকে ঘিরে রাখেন, যেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় এক-চতুর্থাংশ জানান, তারা লিঙ্গভিত্তিক হামলার শিকার হয়েছেন। নারীরা এবং বিশেষ করে ‘কৃষ্ণাঙ্গ’ নারীরা যৌন হুমকি, মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।










