প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের শেয়ারমূল্য সম্প্রতি রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইফোন ১৭ সিরিজের বিক্রি বাড়ায় কোম্পানির বাজারমূল্য প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্স।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্টের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৭ সিরিজ প্রথম ১০ দিনে আইফোন ১৬ সিরিজের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি বিক্রি হয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বিক্রি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াচ্ছে।

এর ফলে অ্যাপলের শেয়ার ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২৬২ দশমিক ৯ ডলারে পৌঁছেছে। এতে কোম্পানির বাজার মূলধন প্রায় ৩ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন বা ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার হয়েছে। এই অবস্থায় অ্যাপল বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি হিসেবে তালিকায় উঠে এসেছে, শীর্ষে আছে এআই চিপ নির্মাতা নিভিডিয়া।

সপ্তাহ শেষে, ইভারকোর আইএসআই অ্যাপলকে তাদের ‘ট্যাকটিকাল আউটপারফর্ম’ তালিকায় যুক্ত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কোম্পানিটি চলতি প্রান্তিকে বাজারের প্রত্যাশা অতিক্রম করবে এবং চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ইতিবাচক পূর্বাভাস দেবে।

ইভারকোর আইএসআই বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘চীনে অনলাইন অর্ডার সম্প্রতি চালু হওয়ায় ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রাথমিক ডেলিভারি ডাটা দেখাচ্ছে, অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এ অঞ্চলে চাহিদা অনেক বেশি।’

সেপ্টেম্বরে অ্যাপল নতুন আইফোন ১৭ মডেল বাজারে আনে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিটি দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। এটি চীন ও ভারতের মতো প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রের উপর সম্ভাব্য প্রভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বি. রিলি ওয়েলথের প্রধান মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট আর্ট হোগান বলেন, ‘অ্যাপল নতুন আইফোন চালু করেছে এবং এটি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করছে। কোম্পানির আইফোনের চাহিদা খুব শক্তিশালী।’

বছরের শুরুতে চীনে কঠোর প্রতিযোগিতা ও মার্কিন শুল্কের অনিশ্চয়তার কারণে অ্যাপলের শেয়ার কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে, আগস্টে কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়ায় শেয়ার কিছুটা বেড়েছে। এটি অ্যাপলকে সম্ভাব্য শুল্ক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

যদি এই উত্থান অব্যাহত থাকে, অ্যাপলের শেয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্থান দেখতে পারে। চলতি বছরের শুরু থেকে বর্তমানে শেয়ার ইতোমধ্যেই ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আইফোন ১৭ সিরিজের শক্তিশালী চাহিদাই অ্যাপলের রেকর্ড পরিমাণ বাজারমূল্যের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে।