কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি মানুষকে কাজের চাপ থেকে মুক্তি দেবে, এমন ধারণা এখন অনেকটাই প্রশ্নের মুখে পড়ছে। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী চ্যাটজিপিটির মতো এআই চ্যাটবট ব্যবহারে উৎপাদনশীলতা বাড়লেও কর্মীরা বরং আরো বেশি সময় কাজ করছেন। ফলে তাদের অবসর সময় কমে যাচ্ছে। খবর দ্য রেজিস্টার।
‘এআই অ্যান্ড দ্য এক্সটেন্ডেড ওয়ার্কডে: প্রডাকটিভিটি, কনট্র্যাকটিং এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন অব রেন্টস’ শিরোনামের গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চার মার্কিন অর্থনীতিবিদ এমরি ইউনিভার্সিটির ওয়েই জিয়াং, অবার্ন ইউনিভার্সিটির জুনইয়ং পার্ক, ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটির রেচেল (জিকিউ) জিয়াও ও সেটন হল ইউনিভার্সিটির শেন ঝাং। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস পরিচালিত আমেরিকান টাইম ইউজ সার্ভের (এটিইউএস) ২০০৪-২৩ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন।
ওয়েই জিয়াং বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি আসার পর সবাই ভেবেছিল, এটি আমাদের কাজের চাপ কমাবে। কিন্তু আমাকে আগের চেয়ে আরো বেশি সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে। সহকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলে একই অভিজ্ঞতা জানতে পেরেছি।’
মূলত এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা শুনেই গবেষণা দলটি একটি প্রশ্নের উত্তরের খোঁজ করেন। তা হলো এআই ব্যবহারে আসলেই কর্মীদের কাজের সময় বেড়েছে কিনা।
তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সময়ও বেড়েছে। ২০২২-২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী যারা এআই-নির্ভর পেশায় কাজ করেন তাদের সাপ্তাহিক কাজের সময় গড়ে ৩ ঘণ্টা ৯ মিনিট বেড়েছে, অবসরের সময় ৩ ঘণ্টা ১২ মিনিট কমেছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনশীলতা বাড়লেও সে সুফল বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কর্মীরা পাচ্ছেন না। প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে কর্মীদের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ কম। ফলে বাড়তি লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের হাতে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এআই-নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘরে বসে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে যারা এআই-ভিত্তিক মনিটরিংয়ের আওতায় আছেন, তারা কভিড-১৯ মহামারীর পর আরো বেশি সময় কাজ করছেন। তবে ফ্রিল্যান্স কর্মীদের ক্ষেত্রে এ প্রবণতা দেখা যায়নি।
গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, ‘এআই প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও তা মানুষকে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা থেকে মুক্ত করতে পারেনি। বরং কর্মীরা এখন আগের চেয়ে বেশি সময় কাজ করছেন এবং তাদের সন্তুষ্টিও কমেছে।’










