অ্যাপ ডেভেলপারদের জন্য ক্ষতিকর প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের অভিযোগে অ্যাপল স্টোরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে স্পেনের প্রতিযোগিতা কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল কমিশন অব মার্কেটস অ্যান্ড কম্পিটিশন (সিএনএমসি)। কমিশনের ধারণা, অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে অ্যাপ বিপণন করে এমন ডেভেলপারদের ওপর অস্বাভাবিক ব্যবসায়িক শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে অ্যাপল। খবর টেকটাইমস।
অ্যাপ স্টোরগুলোর অর্থনৈতিক প্রভাব এবং বাজারে তাদের শক্তিশালী অবস্থানের অপব্যবহারের সম্ভাবনাকে আমলে নিয়ে সিএনএমসির তদন্ত শুরু করেছে। অ্যাপলের বিরুদ্ধে গেমিং স্টোরের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযোগ বেশ পুরনো।
প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের অভিযোগ প্রমাণ হলে অ্যাপল বড় জরিমানার সম্মুখীন হতে পারে। জরিমানার অংক কোম্পানিটির বৈশ্বিক বার্ষিক টার্নওভারের ১০ শতাংশ পর্যন্তও হতে পারে।
সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে বড় টেক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোকে কঠোর রাষ্ট্রীয় নীতিমালার আওতায় আনা হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে। স্পেনের তদন্তের বিষয়টিও এরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পেনের এ তদন্তের ফল প্রযুক্তি শিল্প এবং বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনেও অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর কার্যক্রম নিয়ে একই ধরনের তদন্ত হয়। কোম্পানিটি এরই মধ্যে মিউজিক স্ট্রিমিং অ্যাপগুলোয় প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জরিমানা দিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টও (ডিএমএ) অ্যাপলের জন্য বাড়তি আইনি বাধা তৈরি করেছে। এ আইন না মানলেও জরিমানার মুখে পড়তে পারে কোম্পানিটি।
তবে প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে অ্যাপল। কোম্পানিটির দাবি, তাদের অ্যাপ স্টোর নীতি ন্যায়সংগত ও প্রতিযোগিতামূলক। তারা ডেভেলপারদের আয়ের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। এ ব্যাপারে কোম্পানিটি স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
তবে আইনি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হতে থাকায় চাপ বাড়ছে অ্যাপলের ওপর। একদিকে ব্যবসায়িক স্বার্থরক্ষা, একই সঙ্গে কঠোর অ্যান্টিট্রাস্ট আইন অনুসরণ করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে কোম্পানিটি।
গত মে মাসে টেক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ইউনিয়ন গঠনের ব্যাপারে নিউইয়র্কের বিক্রয়কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার অভিযোগ ওঠে অ্যাপলের বিরুদ্ধে। মার্কিন শ্রম আইন অনুযায়ী, এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ অবৈধ।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, অ্যাপল আগামী বছর থেকে তাদের ডিভাইসে ফাইভজি মডেম প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। এটি ২০২৫ সালের কিছু মডেলে ব্যবহার হবে। বিশিষ্ট প্রযুক্তি বিশ্লেষক মিং-চি কুও জানিয়েছেন, অ্যাপল ডিভাইসগুলোয় কোয়ালকম প্রযুক্তির পরিবর্তে এটি ব্যবহার করা হবে।
আইফোন এসই৪ ও আইফোন ১৭” মডেলগুলোয় এ প্রযুক্তি ব্যবহার হবে, যা ২০২৫ সাল নাগাদ মুক্তি পেতে পারে। মডেমে সামান্য উন্নতি সংযোগের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। ফলে এটি বর্তমান এবং আইফোনের ভবিষ্যৎ মডেলগুলোর মধ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।










