২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বৈশ্বিক ক্লাউড অবকাঠামো খাতে ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৫৩০ কোটি ডলারে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের চাহিদা, পুরনো সিস্টেম স্থানান্তর ও ক্লাউড-নেটিভ কোম্পানিগুলোর সম্প্রসারণ এ প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে। এ নিয়ে টানা চতুর্থ প্রান্তিকে ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাজারটি।
ক্যানালিসের তথ্য অনুযায়ী, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস), মাইক্রোসফট আজুর ও গুগল ক্লাউড মিলে বিশ্ব ক্লাউড অবকাঠামো ব্যয়ের ৬৫ শতাংশ দখলে রেখেছে। এ তিন হাইপারস্কেলারের সঙ্গে গ্রাহকদের ব্যয় এক বছরে ২৭ শতাংশ বেড়েছে। এআই-সংক্রান্ত কাজ, বহু মডেল কৌশল ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ এ প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
মাইক্রোসফট আজুর ও গুগল ক্লাউডের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩০ শতাংশের বেশি। আর বাজারের শীর্ষে থাকা এডব্লিউএসের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ শতাংশ। তবে ডলারের হিসাবে এডব্লিউএসের সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু এআই সেবা পাওয়ার বদলে এখন প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ ও প্রয়োজন উপযোগী মডেল বেছে নেয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
ক্যানালিসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ই ঝ্যাং বলেন, ‘এখন কোম্পানিগুলো এমন ক্ষমতা চায় যাতে প্রয়োজনে বিভিন্ন এআই মডেলের মধ্যে পরিবর্তন করা যায়। এতে খরচ, কার্যকারিতা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক ভারসাম্য আনা যায়। এ কারণে এডব্লিউএস বেডরক, আজুর এআই ফাউন্ড্রি ও গুগল ভার্টেক্স এআই এরই মধ্যে নিজস্ব ও তৃতীয় পক্ষের বিভিন্ন মডেল যুক্ত করছে।
ক্যানালিসের সিনিয়র ডিরেক্টর র্যাচেল ব্রিন্ডলি জানান, বড় প্রযুক্তি কোম্পানির মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতা একসঙ্গে চলছে। যেমন এডব্লিউএস বেডরকে অ্যানথ্রপিকের ক্লড ও ওপেনএআইয়ের জিপিটি মডেল যুক্ত হয়েছে, আবার ওপেনএআই তার কম্পিউটিং নেটওয়ার্কে গুগল ক্লাউডকে যুক্ত করেছে। ফলে প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতা দুই-ই চলছে, যাতে দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদা সামলানো যায়।
এছাড়া ওপেন সোর্স এআই মডেল নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে। ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক মাইকেল আজফ বলেন, ‘সংযোগ ক্ষেত্রগুলোয় উদ্ভাবনশীলতাকে এগিয়ে নিতে সক্ষম ওপেন সোর্স এআইয়ের প্রয়োজনীয়তা এখন বাড়ছে। এ জন্য মেটা, ডিপসিকের ও ওপেন এআইয়ের মডেলগুলোয় বাড়তি জোর আরোপের প্রবণতা দেখা দিয়েছে বাজারে।’
এডব্লিউএস দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩২ শতাংশ বাজার হিস্যা ধরে রেখেছে। এর অর্ডার ব্যাকলগ ১৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তবে বিদ্যুৎ ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে সংকটের কারণে নতুন কম্পিউটিং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে প্রতিষ্ঠানটি জুলাইয়ে অ্যামাজন বেডরক এজেন্টকোর চালু করেছে এবং ‘এআই এজেন্টস অ্যান্ড টুলস’ বিভাগে ৮০০-এর বেশি টুল যুক্ত করেছে। আগস্টে অ্যানথ্রপিকের ক্লড ওপাস ৪.১ ও ওপেনএআইয়ের জিপিটির অস মডেল যুক্ত করে তাদের সেবা আরো সম্প্রসারণ করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় অবকাঠামো সম্প্রসারণে বহু বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
আজুর বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্লাউড সেবাদাতা হিসেবে ২২ শতাংশ বাজার দখল করেছে। এর প্রবৃদ্ধি ৩৯ শতাংশ, যা পুরনো সিস্টেম স্থানান্তর, ক্লাউডভিত্তিক কোম্পানির সম্প্রসারণ এবং এআই সেবার দ্রুত গ্রহণের ফলে সম্ভব হয়েছে। আজুর এআই ফাউন্ড্রিতে ওপেনএআই, ডিপসিক, মেটা ও এক্সএআইয়ের নতুন মডেল যুক্ত হয়েছে এবং নতুন করে ব্ল্যাক ফরেস্ট ল্যাবস ও মিস্ট্রাল এআইয়ের মডেল যোগ হবে। মাইক্রোসফট এরই মধ্যে ৭০টিরও বেশি অঞ্চলে চার শতাধিক ডাটা সেন্টার খুলেছে।
গুগল ক্লাউড ১১ শতাংশ বাজার ধরে রেখেছে এবং ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বড় চুক্তির সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং বছরের প্রথমার্ধেই ২০২৪ সালের সমপরিমাণ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। গুগল ২০২৫ সালের জন্য মূলধনি ব্যয় বাড়িয়ে ৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলার করেছে। জুনে তারা জেমিনি ২.৫ ফ্ল্যাশ-লাইট চালু করেছে, যা সবচেয়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী মডেল বলে দাবি করছে। বর্তমানে জেমিনি ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারীকে সেবা দিচ্ছে। গুজব আছে, ওপেনএআইয়ের ক্লাউড সাপ্লাই নেটওয়ার্কে যোগ দিয়ে গুগল অতিরিক্ত কম্পিউটিং সক্ষমতা সরবরাহ করতে পারে।
হাইপারস্কেলাররা ডাটা সেন্টার ও এআই সক্ষমতা বাড়াতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক ক্লাউড খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। তবে বিদ্যুৎ ও চিপের সংকট চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।










