নতুন আইফোন হাতে পাওয়ার পর অনেকেই সেটআপ শেষ করেই ব্যবহার শুরু করে দেন। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোনটি আরো নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস একেবারে শুরুতেই বদলে নেয়া উচিত। সামান্য কিছু পরিবর্তনেই আইফোনের কার্যকারিতা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।
বিশেষ করে সদ্য বাজারে আসা আইফোন ১৬ই মডেলের মতো ডিভাইসগুলোয় রয়েছে কিছু নতুন ফিচার, যেগুলো চালু না করলে ব্যবহারকারীরা ফোনটির সম্পূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। নিচে এমন পাঁচটি জরুরি কাজের কথা তুলে ধরা হলো, যেগুলো নতুন আইফোন কেনার পরই করে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
স্টোলেন ডিভাইস প্রটেকশন চালু
আইফোনের দাম ও জনপ্রিয়তার কারণে এটি তস্করদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু। পাসকোড জেনে গেলে তারা সহজেই ফোনের ভেতরের যাবতীয় তথ্য চুরি করে নিতে পারে। এ সমস্যার সমাধানে অ্যাপল চালু করেছে ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রটেকশন ফিচার’, যা ডিফল্ট হিসেবে চালু থাকে না।
এ ফিচার চালু করলে ফেস আইডি ছাড়া ফোনে সংরক্ষিত পাসওয়ার্ড, অ্যাপল অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন করা যায় না। এমনকি অ্যাকাউন্টে কোনো পরিবর্তন করতে গেলেও ১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর আবার ফেস আইডি ব্যবহার করতে হয়। প্রটেকশন ফিচারটি ফোনের সেটিংস > ফেস আইডি ও পাসকোড > স্টোলেন ডিভাইস প্রটেকশন অন করলেই চালু হয়ে যাবে।
অ্যাকশন বোতাম কাস্টমাইজ
আইফোন ১৫ প্রো বা পরবর্তী মডেলগুলোয় আগের সাইলেন্ট বোতামের পরিবর্তে এসেছে নতুন অ্যাকশন বোতাম। এটি কেবল সাইলেন্ট মোড চালু বা বন্ধে সীমাবদ্ধ নয়, ব্যবহারকারী চাইলে এটি দিয়ে ক্যামেরা অন করা, টর্চ জ্বালানো, ভয়েস রেকর্ডিং, অনুবাদ বা শর্টকাট চালু করার কাজেও ব্যবহার করতে পারেন। সেটিংসের অ্যাকশন বাটন অপশন থেকে সহজেই এটি কাস্টমাইজ করা যায়।
ডিফল্ট অ্যাপস পরিবর্তন
আগে আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপলের নির্ধারিত অ্যাপ ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করতে পারতেন না। কিন্তু এখন কেউ চাইলেই ব্রাউজার, ই-মেইল, বার্তা পাঠানোসহ বিভিন্ন কাজের জন্য পছন্দের অ্যাপকে ডিফল্ট হিসেবে নির্ধারণ করতে পারবেন। সুবিধাটি চালু করতে যেতে হবে সেটিংস > অ্যাপস > ডিফল্ট অ্যাপস অপশনে।
অ্যাপলের ডাটা কালেকশন বন্ধ করা
অ্যাপল সাধারণত ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার ব্যাপারে সচেতন থাকলেও কিছু তথ্য তারা সংগ্রহ করে। চাইলে এসব তথ্য সংগ্রহের অনুমতি বন্ধ করে দেয়া যায়। সেটিংসে গিয়ে প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি> অ্যানালাইটিকস অ্যান্ড ইম্প্রুভমেন্টে থাকা সব অপশন বন্ধ করে দিতে হবে। তারপর অ্যাপল অ্যাডভারটাইজ অপশন থেকে পার্সোনাল অ্যাডভারটাইজ এবং সার্চ সেটিংসে গিয়ে অ্যাপল ইম্প্রুভ সার্চ টগলের অপশনটিও বন্ধ করে দিতে হবে।
সহজ ব্যবহারের জন্য অ্যাকসেসিবিলিটি ফিচারগুলো চালু
আইফোনে এমন কিছু সহজ ব্যবহারের অ্যাকসেসিবিলিটি ফিচার রয়েছে যা সবার জন্যই উপকারী। এর মধ্যে রয়েছে ‘ব্যাক ট্যাপ’। এর মাধ্যমে ফোনের পেছনে দুই বা তিনবার টোকা দিলেই নির্দিষ্ট কাজ করা যায়। এছাড়া সাউন্ড রিকগনিশন বা শব্দ শনাক্তকরণ ফিচারটি আশপাশের দরজায় নক বা ঘণ্টা বাজানোর শব্দ বা শিশুর কান্না শনাক্ত করতে পারে। আর কণ্ঠস্বরে শর্টকাট ফিচারটি নির্দিষ্ট শব্দ শোনামাত্র নির্ধারিত কাজ শুরু করে। এই ফিচারগুলো চালু করতে যেতে হবে সেটিংসের অ্যাকসেসিবিলিটি অপশনে। -স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে










