টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকস চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় ও পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে। গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ৪২ শতাংশ ও পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ১ হাজার ৪৫৮ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৩ সালের এপ্রিল-জুনের তুলনায় পরিচালন মুনাফা বেড়েছে সাড়ে ১৪ গুণের বেশি। খবর সিএনবিসি।

আর্থিক কোম্পানি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্যানুযায়ী, এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৩ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান ওন, কিন্তু এ সময়ে আয় হয়েছে ৭৪ দশমিক শূন্য ৭ ট্রিলিয়ন ওন। অন্যদিকে এ বছর এপ্রিল-জুনে পরিচালন মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫৩ ট্রিলিয়ন ওন, কিন্তু মুনাফা অর্জন হয়েছে ১০ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ওন। স্যামসাং জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণকাজে কোম্পানিটির উচ্চ ব্যান্ডউইডথের মেমোরি চিপের পাশাপাশি প্রচলিত মেমোরি চিপ ও ডায়নামিক র‌্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরির (ডিআরএএম বা ডির‌্যাম) চাহিদা বেড়েছে। এতে স্যামসাংয়ের আয় ও পরিচালন মুনাফা বেড়েছে।

চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এআই-নির্ভর সার্ভারের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছে স্যামসাং। এতে এইচবিএম, সার্ভার ডির‌্যাম ও এসএসডিসহ সামগ্রিকভাবে সার্ভার উৎপাদন আরো বাড়বে। তবে স্যামসাং জানিয়েছে, চাহিদার বিপরীতে এইচবিএম ও সার্ভার ডির‌্যাম সরবরাহ করতে যে সক্ষমতার প্রয়োজন হবে, তা প্রচলিত মেমোরি চিপ সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করবে।

প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এআইয়ের বর্ধিত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর মাধমে হালনাগাদ এআই মেমোরিপণ্য এইচবিএম৩ই-এর উৎপাদন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি এআই সার্ভারের জন্য উচ্চ চাহিদার এসএসডিরও উৎপাদন বাড়ানো হবে।

দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক টেক জায়ান্টটি বলছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাধারণ ও অগ্রাধিকার শেয়ারের বিপরীতে ৩৬১ ওন লভ্যাংশ দেয়া হবে। বর্তমান লভ্যাংশ নীতি অনুযায়ী, প্রতি প্রান্তিকে লভ্যাংশ বিতরণের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ওন, যা আগস্টের শেষের দিকে পরিশোধ করা হবে। এদিকে গতকাল স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।

কভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী সময়ে মেমোরি চিপ ও ইলেকট্রনিকসের চাহিদা কমে যাওয়ায় ২০২৩ সালে রেকর্ড লোকসানের মুখে পড়ে বিশ্বের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। তবে গত বছর থেকে এআই-ভিত্তিক মেমোরি চিপের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্যামসাংয়ের ব্যবসা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে স্যামসাং জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের স্মার্টফোন বিক্রি কমেছে। প্রথম প্রান্তিকে নতুন মডেলের কিছু স্মার্টফোন বাজারে ছাড়াকে প্রাথমিক কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গ্যালাক্সি এস টোয়েন্টিফোর সিরিজের স্মার্টফোনের জোরালো চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোনের চাহিদা তুলনামূলক কম দেখা গেছে, বিশেষ করে দামি বা ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের বিক্রি কম হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে যে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দামি ফোনগুলোর বিক্রি বাড়বে। তবে সামগ্রিকভাবে স্মার্টফোন বিক্রিতে মন্দা ভাব থাকতে পারে। স্মার্টফোন ব্যবসায় মুনাফা কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে মূল যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়া।

প্রিমিয়াম গ্যালাক্সি এআই পণ্যগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে স্যামসাং। বুধবার তারা বলেছে, ‘এমনকি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও আমরা দীর্ঘমেয়াদি টেকসই যন্ত্রাংশ নিশ্চিত করতে গ্যালাক্সি এআই কার্যকারিতার হালনাগাদ করতে বিনিয়োগ চালিয়ে যাব।’