যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) অনলাইন প্লাটফর্মে ভুয়া পর্যালোচনা বা রিভিউ পোস্ট করাকে বেআইনি ঘোষণা করেছে। গ্রাহকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সুরক্ষা দিতে ও অনলাইন পর্যালোচনার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন থেকে ব্যবসা অথবা ব্যক্তিরা ভুয়া রিভিউ পোস্ট করে ধরা পড়লে জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন। খবর অ্যান্ড্রয়েড পুলিশ।

প্রায়ই রেস্তোরাঁ, পণ্য বা থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে অনলাইনে রিভিউ ও রেটিংয়ের ওপর অনেকেই নির্ভর করেন। ভালো রিভিউ সাধারণত একটি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা বোঝায়, অন্যদিকে খারাপ রিভিউতে বিভিন্ন সমস্যা উল্লেখ থাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অনলাইনে ভুয়া রিভিউ বেড়ে গেছে। কিছু ব্যবসা বা ব্যক্তি তাদের পণ্য বা পরিষেবাকে আরো ভালো দেখানোর জন্য মিথ্যা ইতিবাচক পর্যালোচনা পোস্ট করে অথবা প্রতিযোগীদের ক্ষতি করার জন্য ইচ্ছাকৃত নেতিবাচক পর্যালোচনা পোস্ট করে। অনলাইনে লাখ লাখ ক্রেতা এ ধরনের ভুয়া রিভিউ দেখে টাকা খরচ করে প্রতারিত হতে পারেন।

এফটিসির অফিশিয়াল প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, নতুন আইনি নিয়মে এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া রিভিউ তৈরি করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা যাবে না। এর অর্থ হলো কোম্পানি বা ব্যক্তিরা ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যা ইতিবাচক পর্যালোচনা বা প্রতারণামূলক প্রতিক্রিয়া তৈরিতে এআই ব্যবহার করতে পারবেন না। সেই সঙ্গে পক্ষপাতদুষ্ট পর্যালোচনা পোস্ট করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যবসাগুলো তাদের পণ্য বা পরিষেবা সম্পর্কে ইতিবাচক পর্যালোচনা বা প্রতিযোগীদের সম্পর্কে নেতিবাচক পর্যালোচনা পোস্ট করতে কাউকে অর্থ প্রদান ও এ কাজে উৎসাহিত করতে পারবে না।

এফটিসির চেয়ার লিনা এম খান বলেছেন, ‘ভুয়া রিভিউ শুধু ব্যক্তির সময় ও টাকাই নষ্ট করে না, ফলে সৎ ও প্রকৃত ব্যবসাগুলো গ্রাহক ও রাজস্ব হারাতে পারে। ভুয়া রিভিউর কারণে অনেক বৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সুযোগবঞ্চিত হতে পারে।’