কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞাপন খাতের নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। বিজ্ঞাপনের ধরন থেকে শুরু করে তা কাদের ও কখন দেখানো হবে, সেটি নির্ধারণে ব্যবহার হচ্ছে এআই। এমনকি বিজ্ঞাপনের কনটেন্ট নির্মাণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শরণাপন্ন হচ্ছেন নির্মাতারা। আর্থিক পরামর্শক ও সেবা খাতের বৈশ্বিক জায়ান্ট প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্সের (পিডব্লিউসি) এক প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মিডিয়া ও বিজ্ঞাপন শিল্পে আগামী পাঁচ বছরে ভোক্তা সংখ্যা ও ব্যবসায়িক ব্যয়—দুটোই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়বে। ২০২৯ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শিল্পটির আয় পৌঁছতে পারে সাড়ে ৩ ট্রিলিয়ন (৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি) ডলারে, যেখানে প্রধান অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে এআই। খবর রয়টার্স।
পিডব্লিউসির গ্লোবাল এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড মিডিয়া আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে মিডিয়া ও বিনোদন খাতে বিজ্ঞাপন ব্যয় দ্বিগুণ হারে বাড়বে। প্রতি বছর বিজ্ঞাপন খাতে ব্যয় বাড়বে গড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হারে। এ ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো এআইয়ের অগ্রগতি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একই সঙ্গে বিজ্ঞাপন শিল্পে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগও আকর্ষণ করে আনছে। এআই টুল ব্যবহারের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন আরো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও লক্ষ্যভিত্তিক হওয়ায় এর কার্যকারিতাও বাড়ছে, যা খাতটিতে বিনিয়োগ বাড়ার কারণ।
পিডব্লিউসির বিশ্লেষণে বলা হয়, এআই বিজ্ঞাপনকে আরো কাস্টমাইজড ও দক্ষ করে তুলছে। ফলে বিজ্ঞাপনদাতারা প্রচলিত মাধ্যমের তুলনায় ডিজিটাল মাধ্যমকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ২০২৪ সালে ইন্টারনেট সংযুক্ত স্মার্ট টিভি (যাকে কানেক্টেড টিভি বা সিটিভি বলা হয়) থেকে যে পরিমাণ বিজ্ঞাপনের আয় হয়েছে, তা প্রচলিত টিভি বিজ্ঞাপনের মোট আয়ের ২২ শতাংশ ছিল। যেখানে ২০২০ সালে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ভবিষ্যতে এআই দিয়ে বিজ্ঞাপনকে আরো বেশি করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও নির্দিষ্ট রুচিভিত্তিকভাবে সাজানো সম্ভব হবে, তখন এ সিটিভি বিজ্ঞাপন আরো জনপ্রিয় হবে। এর মধ্য দিয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে সিটিভি বিজ্ঞাপন মোট ব্রডকাস্ট বিজ্ঞাপনের ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে পিডব্লিউসি ইউএসের গ্লোবাল এন্টারটেইনমেন্ট ও মিডিয়া লিডার বার্ট স্পিগেল বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভোক্তার সীমিত ব্যয়ের প্রভাব মোকাবেলা করছে মিডিয়া ও বিনোদন শিল্প। এমন পরিস্থিতিতে বিজ্ঞাপনই হয়ে উঠছে এ খাতের আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি।
অনেকের মতে, এআই প্রযুক্তির উত্থানে সৃষ্টিশীল শিল্পে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বিজ্ঞাপন খাত এআই টুলকে দ্রুতই কাজে লাগিয়েছে। ইন্টারঅ্যাক্টিভ অ্যাডভার্টাইজিং ব্যুরো প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের মধ্যে ৯০ শতাংশ বিজ্ঞাপনদাতা ভিডিও বিজ্ঞাপন তৈরিতে এআই টুল ব্যবহার করবে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন নির্মাতারা দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে ব্যক্তিগত ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন, যা দর্শকের আগ্রহ ও প্রয়োজন অনুযায়ী আরো প্রাসঙ্গিক হবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তিকে ভালোভাবে শেখা ও দক্ষভাবে কাজে লাগানোও খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
পিডব্লিউসি চায়নার গ্লোবাল টেকনোলজি, মিডিয়া ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান উইলসন চাউ বলেন, ‘নতুন দর্শককে আকৃষ্ট করতে এবং ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি আনতে বিনোদন ও মিডিয়া খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকেই নিজেদের কার্যক্রম একটি সংযুক্ত পরিবেশে কল্পনা করতে হবে।’










