উচ্চশিক্ষার জগতে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল ‘ক্লড ফর এডুকেশন’ নিয়ে এসেছে অ্যানথ্রোপিক। মডেলটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা অন্যান্য এআইয়ের মতো শুধু তথ্য প্রদান করে না, বরং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও শিক্ষকদের পাঠ্যক্রম কাস্টমাইজ করতে সহায়তা করতে পারে। ক্যালকুলাস টিউটরিং ও থিসিস ফিডব্যাক এডিটিং টিউটর হিসেবে এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পৌঁছে গেছে ক্লড। খবর টেক রাডার।
সাধারণত এআই চ্যাটবট শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবন্ধ লেখে। যদিও শিক্ষার্থীরা তা নিজের বলে দাবি করতে পারে। তবে ক্লড ফর এডুকেশনের নতুন লার্নিং মোড এ ধরনের সমস্যাকে সমাধান করার জন্য তৈরি হয়েছে। নতুন এ পদ্ধতিতে ক্লড কেবল শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়ার পরিবর্তে সক্রেটিক পদ্ধতির প্রতি মনোযোগী করবে, যা শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে ও নিজেদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করবে।
সক্রেটিক পদ্ধতি মূলত একজন শিক্ষকের প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চিন্তা প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করার একটি প্রাচীন শিক্ষা পদ্ধতি। এতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তাদের প্রশ্ন করতে সাহায্য করেন, যাতে তারা নিজেই সমস্যার সমাধানে পৌঁছতে পারে। এ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও যুক্তি তৈরির ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক।
অ্যানথ্রোপিক চাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা এআইকে হোমওয়ার্ক মেশিন হিসেবে কম, বরং চিন্তাশীল টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (টিএ) হিসেবে বেশি বিবেচনা করুক। বর্তমানে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কিশোর-কিশোরী হোমওয়ার্কের জন্য চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে। অ্যানথ্রোপিকের লক্ষ্য হলো, শুধু সমস্যার স্বয়ংক্রিয় সমাধান না দিয়ে এআইকে এমনভাবে ব্যবহার করা যাতে এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও শেখার প্রক্রিয়াকে আরো গভীর ও কার্যকরী করা যায়।
অ্যানথ্রোপিকের পদক্ষেপটিতে এরই মধ্যে বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাড়া দিয়েছে। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অ্যানথ্রোপিকের প্রথম অফিশিয়াল ‘ডিজাইন পার্টনার’ হিসেবে সই করেছে, যা ক্লডকে এর ১৩টি ক্যাম্পাসজুড়ে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীকে অ্যাকসেস প্রদান করে। এ প্রোগ্রাম গ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে চ্যাম্পলাইন কলেজ ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সও।
ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক উভয়েই শিক্ষার ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তাদের পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি প্লাসের মতো শিক্ষাকেন্দ্রিক সরঞ্জাম রয়েছে, যা সেমিস্টারের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী দুই মাস কলেজ ছাত্রদের বিনামূল্যে দেয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন সিইও স্যাম অল্টম্যান।
অন্যদিকে অ্যানথ্রোপিক ক্লডের মাধ্যমে শিক্ষার ক্ষেত্রে আরো কেন্দ্রীভূত পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। তারা পরিমাণ বা সংখ্যা নয়, বরং প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। কোম্পানিটি চাচ্ছে, ক্লড শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতি ও চিন্তাভাবনা গঠনে সহায়তা করুক, যাতে তারা ভবিষ্যতে আরো স্বাধীন, সৃজনশীল ও গভীর চিন্তা করতে পারে।










