কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো ও ডাটা সেন্টারে বিনিয়োগের ফলে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর খাতের আয় রেকর্ড ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি)। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে খাতটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশে।

আইডিসির ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ইন্টেলিজেন্স’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর খাতের আয় দাঁড়িয়েছিল ৬৮ হাজার কোটি ডলার (৬৮০ বিলিয়ন), যা আগের বছরের তুলনায় ২২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যেই পূর্বাভাসের চেয়ে প্রায় দুই বছর আগেই বাজার ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

আইডিসি জানায়, ডাটা সেন্টার চিপই সেমিকন্ডাক্টর বাজারে এখনো সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধির উৎস। এআই অবকাঠামো, দ্রুততর কম্পিউটিং ও ডাটাসেন্টার নেটওয়ার্কিংয়ের চাহিদা রাজস্ব আয় বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি র‍‍্যাক-স্কেল সিস্টেম, হাই-স্পিড ইন্টারকানেক্ট, মেমোরি ও উন্নত নেটওয়ার্কিং সেমিকন্ডাক্টর চিপসের চাহিদাও বাড়ছে।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি একাই ২০২৫ সালে ২০ হাজার কোটি ডলারের (২০০ বিলিয়ন) বেশি আয় করবে। কম্পিউটিং সেগমেন্টে আয় ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৩৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে (৩৪৯ বিলিয়ন) দাঁড়াবে।

ক্লাউড সেবা, টেলিকম অপারেটর ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এআই কাজের জন্য নেটওয়ার্ক আপগ্রেড করছে। ফলে ২০২৫ সালে নেটওয়ার্কিং ও কানেক্টিভিটি সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১৩ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস আইডিসির। উচ্চ ক্ষমতার ইথারনেট সুইচ, স্মার্টনিকস, ডিপিইউ ও অপটিক্যাল ইন্টারকানেক্ট ব্যবহারে ডাটা সরবরাহের চাপ কমবে এবং এআই প্রশিক্ষণ ও বিশ্লেষণ কাজ আরো দ্রুত হবে।

প্রায় দুই বছর ধীরগতির পর ২০২৫ সালে অটোমোটিভ ও শিল্প খাতে ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর বাজারে ফের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আইডিসি জানায়, এ বছর অটোমোটিভ সেমিকন্ডাক্টর বাজার ৩ শতাংশ ও শিল্প সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১১ শতাংশ বাড়তে পারে। গাড়িতে সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহারের হার, সফটওয়্যারভিত্তিক গাড়ি ও বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনে নতুন উপকরণ ব্যবহারের প্রবণতা বাজারকে সহায়তা করছে।

অন্যদিকে সামরিক ও মহাকাশ, উৎপাদন শিল্প, এজ এআই ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুতায়ন প্রবণতা শিল্প সেমিকন্ডাক্টর বাজারে চাহিদা তৈরি করছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও সতর্ক বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির পথে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ওয়্যারলেস বা স্মার্টফোন সেমিকন্ডাক্টর বাজারে এ বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে তা মূলত বাড়তি ফিচার বা কনটেন্টের কারণে, ইউনিট বাড়ার জন্য নয়। ফাইভজি, এআই ফিচার ও উন্নত মাল্টিমিডিয়ার কারণে প্রতি ফোনে চিপের সংখ্যা ও মান বাড়ছে। ফলে নির্মাতারা এনপিইউ, জিপিইউ ও কানেক্টিভিটি ফিচার যুক্ত করে অন-ডিভাইস এআই সুবিধা দিচ্ছে।

আইডিসির মতে, ২০২৪ সালে যে বাজারগুলো দুর্বল ছিল, সেগুলো ২০২৫ সালে ঘুরে দাঁড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় সুযোগ ডাটাসেন্টার ও এআই অবকাঠামোয়ই। সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে বলে উল্লেখ করেন আইডিসির গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট মারিও মোরালেস। তার মতে, বৃহৎ পরিসরে কম্পিউটিং ও নেটওয়ার্কিংয়ের বিস্ফোরক চাহিদা বাজারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২০২৮ সালের মধ্যেই ১ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করবে, যা প্রযুক্তি খাতকে আরো বড় রূপান্তরের দিকে নিয়ে যাবে।