মহাকাশ বা চাঁদে বড় পরিসরে ডাটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে মানব সভ্যতা। ধারণাটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মতো মনে হলেও লোনস্টার ডাটা হোল্ডিংসের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন আইসেল বিশ্বাস করেন, একদিন এমনটা বাস্তবে পরিণত হবে। খবর বিবিসি।
ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান লোনস্টার দাবি করছে, সম্প্রতি তারা একটি ছোট ডাটা সেন্টার সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। এর আকার একটি শক্ত মলাটযুক্ত বইয়ের মতো। ডিভাইসটি ইনটুইটিভ মেশিনস নামের একটি মার্কিন মহাকাশ কোম্পানির অ্যাথেনা লুনার ল্যান্ডারের মাধ্যমে চাঁদে পৌঁছায়। ল্যান্ডারটি ইলোন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের রকেট দ্বারা উৎক্ষেপণ করা হয়।
গবেষকরা বলছেন, পরীক্ষাটি ভবিষ্যতে চাঁদে ডাটা সংরক্ষণের পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পৃথিবীর বাইরে ডাটা সেন্টার স্থাপন করা গেলে তা সাইবার হামলা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে তথ্যকে আরো সুরক্ষিত রাখতে পারবে। তবে এ প্রযুক্তি বাস্তবায়নে এখনো অনেকটা বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে বলে মনে করছেন তারা।
ডাটা সেন্টার হলো বিশাল গুদামের মতো স্থান, যেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় অসংখ্য কম্পিউটার সার্ভার। এসব সার্ভার ওয়েবসাইট, কোম্পানি ও সরকারের ব্যবহার করা তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণ করে। লোনস্টারের দাবি, চাঁদে ডাটা সেন্টার স্থাপন করলে গ্রাহকরা পাবেন অত্যন্ত নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডাটা প্রসেসিং সেবা, সৌরশক্তির অফুরন্ত উৎস, যা ডাটা সেন্টার চালানোর শক্তি জোগাবে এবং পৃথিবীর যেকোনো ধরনের হুমকি (সাইবার আক্রমণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ) থেকে মুক্ত পরিবেশ।
কোম্পানিটির মতে, অবিরাম সূর্যালোক এবং পৃথিবী থেকে দূরত্ব চাঁদকে আদর্শ ডাটা সংরক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে। তবে মহাকাশে রক্ষণাবেক্ষণের চ্যালেঞ্জ এখনো বড় প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রতিবেদন বলছে, যদিও মহাকাশভিত্তিক ডাটা সেন্টারের ধারণা আজব শোনাতে পারে, তবে এটি এখন দ্রুত বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। এ পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ পৃথিবীতে উপযুক্ত স্থানের সংকট এবং ডাটা সংরক্ষণের অতিরিক্ত চাহিদা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ডাটা সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের চাহিদা বেড়েছে অভূতপূর্ব হারে। ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ ডাটা সেন্টারের বার্ষিক চাহিদা ১৯-২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এমন অবস্থায় চাপ সামলাতে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিকল্প পথ খুঁজছে।
তত্ত্বগতভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে বা চাঁদে ডাটা সেন্টার স্থাপন বেশকিছু সুবিধা বয়ে আনতে পারে। সূর্য থেকে প্রায় সীমাহীন শক্তি পাওয়া যাবে, আবার পার্শ্ববর্তী কেউ পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে অভিযোগ করবে না বললেই চলে।
লোনস্টারের মতো কোম্পানিগুলো মনে করছে, মহাকাশ বা চাঁদে ডাটা সেন্টার স্থাপন পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঝুঁকির স্থায়ী সমাধান দিতে পারে। যদিও এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক জটিলতা এখনো প্রকট, তবে ধারণাটি দিন দিন বেশি করে বাস্তবসম্মত হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।










