বিভিন্ন দেশের আমদানি পণ্যের ওপর নতুন করে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে গত বুধবার আমদানীকৃত পণ্য, বিশেষ করে গ্যাজেট ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির ওপর বড় ধরনের শুল্ক বৃদ্ধির কথা জানান তিনি। নতুন শুল্ক চলতি মাস থেকে কার্যকর হবে, যার ফলে বিদেশী পণ্য আরো ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বাজার গবেষণা সংস্থা ডাটা ইনসাইটস মার্কেটের গতকালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নতুন শুল্ক নীতি দেশীয় শিল্পের বিকাশে সহায়তা করবে। তবে এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের মধ্যে। অনেক গ্যাজেট প্রস্তুতকারক উদ্বিগ্ন যে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি বাজারে পণ্য কমে যাবে এবং ক্রেতাদের চড়া দামে এসব গ্যাজেট কিনতে হবে। সমালোচকদের মতে, এটি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে পারে।

10

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন অবস্থায় ব্যবসায়ীরা নতুন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ভোক্তারাও এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বেশ চিন্তিত। এর মধ্যে রয়েছে সুভি নামে রান্নার স্মার্ট যন্ত্র তৈরির প্রতিষ্ঠান। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা রবিন লিস জানান, সুভির আধুনিক কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স চীনের একটি কারখানায় তৈরি হয়। প্রতিটি যন্ত্রে ৫০০-এরও বেশি ছোট ছোট যন্ত্রাংশ লাগে, যা চীনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়। তবে বাড়তি শুল্কের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যা ব্যবসার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র খুঁজতে লিস তাইওয়ান ও ভিয়েতনাম সফরের কথাও জানান ।

প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টেলিভিশন ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির মতো পণ্য নিয়ে গঠিত ইলেকট্রনিকস খাত নতুন শুল্কের কারণে বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রির জন্য স্যামসাং, এলজি ও সনির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক পণ্য আমদানি করতে হয়। শুল্ক বাড়ার ফলে এসব কোম্পানির উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা তাদের মুনাফায় চাপ ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে শুল্ক বহাল থাকলে জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাড়তে পারে বা কোম্পানিগুলো ক্ষতি কমানোর জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা নতুনভাবে সাজাতে বাধ্য হতে পারে।

তারা জানান, গ্যাজেটের ওপর শুল্ক বাড়ায় নির্মাতাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। ফলে ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে। গ্যাজেটের জন্য একটি বড় বাজার চীন। যেসব দেশের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে তার মধ্যে চীন (৩৪ শতাংশ) একটি। এছাড়া গ্যাজেট তৈরিতে ব্যবহৃত অনেক উপকরণ বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। নতুন শুল্কের ফলে এ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা তৈরি হতে পারে, যার ফলে আরো মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।