চ্যাটজিপিটির অন্তত ২২ কোটি সাপ্তাহিক ব্যবহারকারী ভবিষ্যতে সাবস্ক্রিপশনের ভিত্তিতে সেবা নেবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ওপেনএআই। কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দি ইনফরমেশন এ তথ্য জানিয়েছে।

ওপেনএআইয়ের ধারণা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ২৬০ কোটিতে। এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২২ কোটি ব্যবহারকারী পরিষেবাটির পেইড সাবস্ক্রিপশন নেবে। এতে চ্যাটজিপিটি বিশ্বের অন্যতম বড় সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ব্যবসায় পরিণত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে চ্যাটবটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই।

চ্যাটজিপিটির গত জুলাইয়ের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী মোট সাপ্তাহিক ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অর্থ দিয়ে প্লাটফর্মটি ব্যবহার করছে, যা মোট ব্যবহারকারীর প্রায় ৫ শতাংশ। এসব ব্যবহারকারী মাসিক ২০ ডলারের ‘প্লাস’ বা ২০০ ডলারের ‘প্রো’ প্ল্যান কিনেছে।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে ওপেনএআই কোনো সাড়া দেয়নি।

সূত্রদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চলতি বছরের শেষে ওপেনএআইয়ের বার্ষিক আয় প্রায় ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার কোম্পানিটির লোকসানও বাড়ছে।

সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ওপেনএআইয়ের আয় হয়েছে প্রায় ৪৩০ কোটি, যা আগের বছরের মোট আয়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। তবে এআই প্রযুক্তি বিকাশ এবং চ্যাটজিপিটি পরিচালনায় গবেষণা ও অবকাঠামো ব্যয়ের কারণে প্রতিষ্ঠানটি একই সময়ে প্রায় ২৫০ কোটি ডলার লোকসানও গুনেছে।

কোম্পানিটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, শপিং ও বিজ্ঞাপনভিত্তিক নতুন ফিচার থেকে ওপেনএআই প্রায় ২০ শতাংশ আয় করবে বলে প্রত্যাশা রয়েছে। চলতি সপ্তাহে সংস্থাটি চ্যাটজিপিটির জন্য একটি ‘পার্সোনাল শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট’ চালু করেছে, যা ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপন বা কমিশনভিত্তিক বিক্রির মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী (সিইও) স্যাম অল্টম্যান গত অক্টোবরে জানান, চ্যাটজিপিটির সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮০ কোটিতে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চ্যাটজিপিটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওপেনএআই এখন বেশি পরিমাণে এআই চিপ কেনা এবং বড় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরিতে জোরালোভাবে কাজ করছে।

চ্যাটজিপিটি চালু হয় ২০২২ সালের নভেম্বরে। দুই মাসের মধ্যে ১০ কোটি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী যোগ দেয় প্লাটফর্মটিতে। চ্যাটবটির জনপ্রিয়তা একে কনজিউমার এআই পণ্যের মধ্যে শীর্ষে নিয়ে যায়। অনলাইনে অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল পরিষেবা হয়ে ওঠে এটি। এক বছরের মধ্যে চ্যাটজিপিটি ১০ কোটি সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর মাইলফলক অতিক্রম করে। পাশাপাশি চ্যাটজিপিটির মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত এক বছরে প্রতি মাসে ৫-১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

তবে সম্প্রতি প্লাটফর্মটি ঘিরে কিছু উদ্বেগও দেখা দিয়েছে, যেমন চ্যাটবটের অতিরিক্ত প্রশংসা বা এআইয়ের প্রভাবে মানুষের মধ্যে ‘ভুল’ ধারণা তৈরি হওয়া।

চ্যাটজিপিটির প্রডাক্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট নিক টারলি বলেন, ‘ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন চ্যাটজিপিটিকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু শিখছে, নতুন ধারণা বা কাজ তৈরি করছে। আগে যে সমস্যাগুলোর সমাধান কঠিন মনে হতো, সেগুলো আরো ভালোভাবে বা সহজভাবে সমাধান করছে।’