স্মার্টওয়াচ নামে ছোট ডিভাইসটি বদলে দিয়েছে হাতঘড়ির সংজ্ঞা। সময় দেখার বাইরেও এ স্মার্ট ঘড়ি জানিয়ে দেয় রাতের ঘুম কেমন হলো, হৃদস্পন্দনের গতি স্বাভাবিক কিনা, এমনকি ব্যায়ামের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কিনা। তবে সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী স্মার্টওয়াচ বিক্রিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত বছর থেকে শুরু করে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ) প্রবৃদ্ধি দেখেনি বাজারটি।

বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে স্মার্টওয়াচের বাজার কমেছে ২ শতাংশ। এ পতনের প্রধান কারণ অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর স্মার্টওয়াচ সরবরাহ ও চাহিদা কমে যাওয়া। একই সঙ্গে ভারতের প্রধান স্মার্টওয়াচ নির্মাতারাও বিক্রির ক্ষেত্রে বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়েছে। এতে করে বিশ্ববাজারে সামগ্রিকভাবে স্মার্টওয়াচ বিক্রি কমেছে।

এদিকে স্মার্টওয়াচ বাজারে বৈশ্বিক পতনের বিপরীতে চীনের ব্র্যান্ডগুলো ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছে। হুয়াওয়ে ও শাওমির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এ সময় বিক্রিতে ঊর্ধ্বগতি ধরে রেখেছে।

কাউন্টারপয়েন্ট আরো বলছে, বিভিন্ন সুবিধা ও জনপ্রিয়তার মধ্যেও গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাপী স্মার্টওয়াচের বিক্রি ৯ শতাংশ কমেছে। যদিও এ সময় চীনে বিক্রি কমেছে ২৯ শতাংশ, তবে কিছু দেশী ব্র্যান্ড, যেমন হুয়াওয়ে ও শাওমি বিক্রি বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল।

এদিকে অঞ্চলভেদে অ্যাপল স্মার্টওয়াচের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে কমতে দেখা গেছে। ২০২৪ সালে টানা দ্বিতীয় বছর অ্যাপল ওয়াচের বিক্রি কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে অ্যাপলের নিজস্ব বাজার উত্তর আমেরিকায়। গত বছর নতুন কোনো মডেল না আসা ও বিদ্যমান মডেলগুলোর সামান্য পরিবর্তনকে চাহিদা কমার কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু অ্যাপল নয়, বিশ্বব্যাপী স্মার্টওয়াচ বাজারে প্রথমবারের মতো পতন দেখেছে ২০২৪ সাল। বার্ষিক হিসাবে গত বছর ডিভাইস বিক্রি হয়েছে ৭ শতাংশ কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টওয়াচ বাজারের এ পতন ও ধীরগতিকে সাময়িক মনে করা হলেও, প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি এক ধরনের সতর্ক সংকেত। বাজারে টিকে থাকতে হলে এখন তাদের আরো নতুন প্রযুক্তি, কার্যকর ফিচার ও উদ্ভাবনী ডিজাইনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৫ কোটি ৪৬ লাখ মানুষ স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করছে। এ বাজারে সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে অ্যাপল।

এদিকে স্মার্টওয়াচের বাজারে পতন হলেও, বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্বব্যাপী ওয়্যারেবল ব্যান্ড বাজার সম্প্রসারণ হয়েছে ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে বেসিক ব্যান্ড, বেসিক ঘড়ি ও স্মার্টওয়াচও। বৈশ্বিক ওয়্যারেবল ব্যান্ড বিক্রিতে অ্যাপলকে টপকে শীর্ষ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে চীনের শাওমি।