কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়লেও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের একটি বড় অংশ এখনো অনলাইন বিজ্ঞাপন বিভাগ থেকে আসছে। সম্প্রতি প্রকাশিত মেটা, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট ও মাইক্রোসফটের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন থেকে শক্তিশালী আয় করেছে টেক জায়ান্টগুলো, যা কোম্পানির সম্প্রসারণ ও মুনাফা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খবর সিএনবিসি।

বর্তমানে প্রযুক্তি দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় এআই। প্রযুক্তিটির চাহিদা বাড়তে থাকায় গত কয়েক বছরে ডাটা সেন্টারসহ এআই পরিচালনায় অপরিহার্য অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ করছে বেশির ভাগ কোম্পানি। লক্ষ্য, এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাজারে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন। কিন্তু বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আয়ের একটি বড় অংশ এখনো অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আসছে বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষক ও লেখক জোনাথন ভ্যানিয়ান।

তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। অনেকের ভয় ছিল, এমন পরিস্থিতি অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজেটকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে সম্প্রতি অনলাইন বিজ্ঞাপন বাজারের প্রবৃদ্ধির ফলে সে উদ্বেগ অনেকটা কমে এসেছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের চলতি বছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অনলাইন বিজ্ঞাপন বাজারের আকার দাঁড়াবে আনুমানিক ২৮ হাজার কোটি ডলার। আগামী পাঁচ বছরে তা প্রায় ৬৮ শতাংশ বেড়ে ৪৭ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এখন বিপুল আয় করছে। ব্যবহারকারীর ডাটা ও আচরণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞাপনকে লক্ষ্যভিত্তিক ও আরো কার্যকর করে তুলতে পারছে গুগল, মেটা ও অন্যান্য প্লাটফর্ম। সার্চ, সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও প্লাটফর্মে প্রদর্শিত এসব বিজ্ঞাপন বড় অংকের আয় এনে দিচ্ছে। ফলে এআই ও নতুন প্রযুক্তিতে ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যেও অনলাইন বিজ্ঞাপন কোম্পানিগুলোর মোট মুনাফা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

স্কেলেবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা জাসমিন এনবার্গ বলেন, ‘আমি মনে করি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজার এখন শক্তিশালী। অনেকেই অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও উত্থান-পতনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। তাই এটি এখন এক ধরনের স্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হচ্ছে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত বিক্রয় বৃদ্ধিতে গত প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতিযোগীদের ছাড়িয়ে গেছে মেটা। কোম্পানির মোট আয়ের ৯৮ শতাংশ এসেছে অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে। একই সঙ্গে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মেটার মোট আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

একই সময় অ্যামাজনের অনলাইন বিজ্ঞাপন বিভাগের আয় বার্ষিক হিসাবে ২৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার হয়েছে। গত প্রান্তিকে অ্যামাজনের বিজ্ঞাপন ইউনিটের প্রবৃদ্ধির হার ক্লাউড ইউনিটের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি মাইক্রোসফটের সার্চ ও নিউজ বিজ্ঞাপন ইউনিট গত প্রান্তিকে আয় করেছে ৩৭০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ১৪ শতাংশ বেশি।

গবেষণা বলছে, বেশ কয়েক বছর ধরে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা যাচ্ছে অনলাইন বিজ্ঞাপন বাজারে। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ব্যাপক বৃদ্ধি এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা ও সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের উত্থানের ফলে বিজ্ঞাপন এখন অনলাইনেই কেন্দ্রীভূত।